স্মৃতির ক্যানভাসে হুমায়ূন আহমেদ
নুহাশ হুমায়ূন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাবার জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকী ছাড়াই তাঁকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এটা আমাকে ভীষণ আনন্দ দেয়। মানুষ যে তাঁকে কতটা ভালোবাসে, তা এক দর্শকের মুখে শুনলাম। বৃষ্টিতে ভিজে এসে তিনি পঞ্চমবারের মতো বাবার সিনেমা দেখেছেন।
এই অনুভূতি নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের পুত্র নুহাশ হুমায়ূনের। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ প্রদর্শিত হয়। মনিষীদের স্মরণ অনুষ্ঠানমালায় গতকাল দিনের সমাপনী আয়োজন ছিল ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মরণ’।
হুমায়ূন আহমেদের লেখায় বারবার উঠে এসেছে তাঁর পরিবার ও চারপাশের চেনা মানুষজন। এই প্রসঙ্গ টেনে নুহাশ বলেন, ‘বাবা আমাদের নিয়ে এত লিখেছেন যে, মানুষ এখনও আমাদের তাঁর গল্পের চরিত্রই মনে করে ! যেখানেই যাই, মানুষ এই ভালোবাসার টানেই কথা বলতে আসে। পৃথিবীর যে প্রান্তেই গিয়েছি, দেখেছি বাবাকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সন্তান হিসেবে এটি এক অন্যরকম অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
আলোচনা পর্বে হুমায়ূন আহমেদের বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীলতা নিয়ে কথা বলেন বক্তারা। ‘হুমায়ূন আহমেদ : নির্মাণশৈলী ও শিল্প দর্শন’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠে চলচ্চিত্র গবেষক ড. শাহাদৎ রুমন বলেন, ‘তিনি ছিলেন একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকারী এক জাদুকর, যিনি হাস্যরস, ব্যঙ্গ ও দর্শনের সমাহারে মধ্যবিত্তের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তিনি অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে যেমন হালকাভাবে উপস্থাপন করতে পারতেন, তেমনি খুব সাধারণ ঘটনাকেও পর্দায় মহিমান্বিত করে তুলতেন।’
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিক্ষক অধ্যাপক ড. মতিন রহমান শোনান হুমায়ূন আহমেদের লড়াকু অধ্যায়ের গল্প। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের এক চরম সংকটকালে হুমায়ূন আহমেদ সিনেমা বানাতে এলেন এবং জয় করলেন। শুরুর দিকে সমালোচনা হতো যে তাঁর সিনেমা নাকি নাটক হয়ে যাচ্ছে ! কিন্তু তিনি দমে যাননি।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মো. মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন। সভাপতির বক্তব্যে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন হুমায়ূন আহমেদের সাফল্যের অনন্য এক দিক তুলে ধরে বলেন, তিনি কেবল রসিক মানুষই ছিলেন না, তিনি প্রমাণ করেছিলেন সৃজনশীলতা দিয়েও কীভাবে সম্মানজনক আয় করা যায়।
- বিষয় :
- স্মৃতি
