প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী
বিগত সরকারের ভুল নীতিতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ০৮:৫৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিগত সরকারের ভুলনীতির ফলে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর বাইরেও বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার পেছনে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামালের উচ্চ আমদানি ব্যয় এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ধীরগতির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে যায়।’
২০২০-২১ অর্থবছর হতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাণিজ্য ঘাটতির চিত্র তুলে ধরা হয় সংসদে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।
২০২১-২২ অর্থবছরে ২৮ দশমিক ১৩, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৭ দশমিক ১৮, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৫০ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন
ডলার বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে দুই দশমিক ৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরের আমদানি ও রপ্তানির পরিসংখ্যান অনুযায়ী সার্কভুক্ত দেশ ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আছে। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে ঘাটতি সাত হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ছাড়া, পাকিস্তানের সঙ্গে ৬৮১ দশমিক তিন, ভুটানের সঙ্গে ২৯ দশমিক ৭৭ এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ১০ দশমিক ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি। নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সঙ্গে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।
রপ্তানি বাণিজ্য নির্ভরশীল তৈরি পোশাকশিল্পেনড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের রপ্তানি বাণিজ্য তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি আয়ের ৮৪ ভাগ এ খাত থেকে অর্জিত হয়।’ এ ছাড়া, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত, কৃষিজ পণ্য, ওষুধ শিল্প, আইসিটি ও সফটওয়্যার সেবা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, হিমায়িত খাদ্য/মাছ এবং প্লাস্টিক পণ্য আংশিক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসমূহকে ব্যাংক গ্যারান্টির বিনিময়ে বন্ডের সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ হতে ২০২ দেশে পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে।’
ট্যানারি স্থানান্তরের সুফল পুরোপুরি মেলেনি খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, কিন্তু বাস্তবায়নে ঘাটতি ছিল। ভালোভাবে হয়নি।’
স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সময় অনেক সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান ঝরে পড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ কারণে আগের তুলনায় চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা কমে গেছে। এটার প্রতিফলন আমরা প্রতিবছর কোরবানির সময় দেখতে পাই।’
৬০ লাখ চামড়া সংগ্রহ নরসিংদী-৫ আসনের সদস্য আশরাফ উদ্দিন কোরবানির চামড়ার বাজার, নির্ধারিত দাম এবং সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার যে দাম নির্ধারণ
করে দেয়, তা লবণযুক্ত সংরক্ষিত চামড়ার দাম। চামড়ার গুণগত মান, সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং পশুর ধরনভেদে বাজারমূল্য ভিন্ন হয়।
পশুর গা থেকে চামড়া খুলে নেওয়ার সময় তা যদি দক্ষতার সঙ্গে করা হয়, সেটার মূল্যও আলাদা হয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, এ বছর প্রায় এক কোটি এক লাখ পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। যে পরিমাণ চামড়া আমরা সংরক্ষণ করতে পেরেছি, তা সন্তোষজনক।’
- বিষয় :
- বাণিজ্য চুক্তি