শিশু গৃহকর্মী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার পাউবো প্রকৌশলী ও তার স্ত্রী ২ দিনের রিমান্ডে
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ১৯:৫১
রাজধানীর ধানমন্ডিতে শিশু গৃহকর্মীকে (৯) হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গৃহকর্তাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী ফারহা নুসরাত বর্ণি।
শনিবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা তার সন্তানকে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে ধানমন্ডি থানায় মামলা করলে সে মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল শনিবার তাদের দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল বাশার বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই শাহনেওয়াজ বাপ্পি আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিনের আবদেন করেন। শুনানি নিয়ে বিচারক আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসাইন সমকালকে বলেন, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় তথ্য মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার কোনো বিষয় থাকলে তাও প্রতিবেদনে উঠে আসবে।
ধানমন্ডির একটি বহুতল ভবনের দশম তলায় পাউবোর প্রকৌশলীর বাসায় কাজ করত শিশুটি। শুক্রবার সকালে সে ওই ভবন থেকে পড়ে যায়। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এটি দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কিছু তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শিশুর স্বজন হত্যার অভিযোগ করেছেন।
ধানমন্ডি থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মাসখানেক আগে ওই বাসায় কাজে যোগ দেয় শিশুটি। ঘটনার সময় সে কোনোভাবে বাসার বারান্দা থেকে পড়ে যায়। বারান্দার নিচের অংশে রেলিং ও ওপরের অংশ খোলা ছিল। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভবন থেকে শিশুটি নিচে পড়ে যাচ্ছে। তবে ওই ক্যামেরায় তৃতীয় তলা পর্যন্ত কভার করেছে। তাই ঠিক কোন তলা থেকে সে কীভাবে পড়ে যায় তা বোঝা যায়নি।
শিশুটির বাবা পেশায় দিনমজুর। তিনি অভিযোগ করেন, মেয়েকে হত্যা করে ভবন থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। অভাবের কারণে তিনি পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেয়েকে ওই বাসায় কাজে দেন। ঘটনার কয়েকদিন আগেই মেয়ে মায়ের কাছে ফোন করে বলে, সে এখানে কাজ করবে না। পরে তারা মেয়েকে নিয়ে যেতে চাইলে গৃহকর্তার স্ত্রী রাজি হননি। উল্টো মেয়েকে নিয়ে যেতে চাইলে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানান।
যে ব্যক্তির মাধ্যমে শিশুটি ঢাকায় আসে, তিনি সাংবাদিকদের জানান, মেয়েটিকে ঢাকায় এনে কাজের জন্য আরেকজনের কাছে দেন। ওই ব্যক্তি তাকে প্রকৌশলীর বাসায় নিয়ে যান। এরপর শুক্রবার গৃহকর্তা ফোন করে মেয়েটির অসুস্থতার কথা জানান। যদিও তিনি এসে দেখেন মেয়েটি মারা গেছে।
- বিষয় :
- গৃহকর্মী
- হত্যার অভিযোগ
- গ্রেপ্তার
- রিমান্ড
