ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানালেন

পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর চিন্তা

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় যুদ্ধ ময়দানে ৩০ বাংলাদেশি

পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী  বিদেশে পাঠানোর চিন্তা
×

আরিফুল হক চৌধুরী

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে ১১০টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৫টি কর্মসংস্থান উপযোগী ট্রেড কোর্সে দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন, অভিবাসন ব্যয় এবং দালাল চক্রের প্রতারণা নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। কর্মীকে বিদেশে পাঠাতে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমানো, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি, তদারকি, সনদায়ন, বিদেশে অবস্থিত শ্রমকল্যাণ উইং থেকে ডিমান্ড লেটার বা ভিসা সত্যায়ন এবং বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীর বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যুসহ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহি ও সহজ করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।

নতুন শ্রমবাজারে জোর
সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখতে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য হলেও ইরান, লেবানন, সিরিয়াসহ ওই অঞ্চলের অস্থিরতার কারণে কর্মী পাঠাতে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। 
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস, পর্তুগালসহ ইউরোপের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানো সহজ করতে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভিসা সেন্টার স্থাপনের জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইরান যুদ্ধে ১২ বাংলাদেশির মৃত্যু
নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১২ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের লাশ সংশ্লিষ্ট দেশে দাফন করা হয়েছে। ৯ জনের লাশ দেশে আনা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ইরান থেকে ১২ নারী, ৮ শিশুসহ মোট ১৮৬ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। 

যুদ্ধের ময়দানে ৩০ বাংলাদেশি
লালমনিরহাট-১ আসনের সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধানের প্রশ্নে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত এপ্রিলে চাকরির আশ্বাসে ৩০ বাংলাদেশি যুবক রাশিয়ায় যান। পরে তাদের পরিবার অভিযোগ করে, চাকরিতে যোগ দেওয়ার বদলে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সরকার তদন্ত শুরু করে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। মন্ত্রী বলেন, গত ২৪ এপ্রিল তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্স নিয়ে ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়া পাঠায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জনের মধ্যে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাকি কর্মীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার।

মাদকে ভেজাল নেই, খাদ্যে ভেজাল
সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার বলেন, বাজারে দেখতে পাচ্ছি খাদ্য রয়েছে, বিশেষ করে এখন ফলের রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়। কোন ফলটি যে ফরমালিনমুক্ত, কোনটি যে আমার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, সেটা নির্ধারণ করতে পারি না। এই অবস্থা কতদিন চলবে? আসলে আমরা দেখি, মাদকে ভেজাল নেই, কিন্তু খাদ্যের মধ্যেই ভেজাল। এটা বড়ই আশ্চর্যজনক। 
জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, এই খাদ্যে ভেজালের কারণে বিভিন্ন ধরনের জটিল অসুখে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে অবগত। ভেজালবিরোধী অভিযান যারা পরিচালনা করেন, তাদের নিয়ে গত বুধবার তিন ঘণ্টা আলোচনা করেছেন। 

দুটি বিল প্রত্যাহার   
মদ্যপান, মদ্য জাতীয় পানীয় ও জুয়া খেলা নিষিদ্ধের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন ২০২৬’-এর বিল উত্থাপনের প্রস্তাব করে পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট ২০২৬’ বিলটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। 
বিল দুটি উত্থাপন করেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিল দুটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি বলেন, সংসদ সদস্য যে দুটি বিল উত্থাপন করেছেন, সে দুটি আইন আছে। আমরা এই সংসদে এই অধিবেশনে ‘জুয়া আইন ২০২৬’ বিল পাস করেছি। 

আরও পড়ুন

×