বাংলাদেশের ইতিহাস গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস: আনু মুহম্মদ
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ২৩:১০ | আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০০:১৯
বাংলাদেশের ইতিহাস মূলত গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহম্মদ। তিনি বলেন, দেশে প্রতিবারই শাসকের ঘোষিত ‘উন্নয়ন’ বৈষম্য বাড়িয়েছে, কর্মসংস্থান কমিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত গণ-অভ্যুত্থানের জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী) আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: বৈষম্যহীন বাংলাদেশ ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা, প্রাপ্তি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আনু মুহম্মদ বলেন, আইয়ুব খান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও শেখ হাসিনার আমলেও উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। বরং পুঁজিপতিরা লাভবান হয়েছেন, বৈষম্য বেড়েছে এবং কর্মসংস্থান কমেছে। এর ফলে মানুষের ক্ষোভ থেকেই গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৬৯ ও ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব ও দাবিগুলো জনগণের কাছে স্পষ্ট ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সেই ধরনের সুস্পষ্ট নেতৃত্ব ছিল না। এরপরও শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়ন মানুষকে রাজপথে নামতে বাধ্য করেছিল।
আনু মুহম্মদের মতে, জুলাই আন্দোলনের সময় দেয়ালচিত্র ও গ্রাফিতিতে যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছিল, সেটিই ছিল গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যহীন সমাজের আকাঙ্ক্ষা মূলত বামপন্থী আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পর যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা সবাই বৈষম্যবাদী ডানপন্থী শক্তি। এখানেই আজকের অন্যতম বড় দ্বন্দ্ব।’
তিনি আরও বলেন, বামপন্থীরা যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তখন তাদের ওপরও নানা ধরনের আক্রমণ হচ্ছে। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হলে বামপন্থী রাজনীতিকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
আলোচনা সভায় বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের পরিবর্তে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা হয়েছে। তার অভিযোগ, বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও মৌলিক সংস্কার হয়নি; বরং মব সহিংসতা, সংখ্যালঘু ও বামপন্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, বলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ঋতু বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কারও জরুরি। মানুষের প্রতি বৈষম্য ও অসম্মান দূর না হলে প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান কখনো ব্যর্থ হয় না; এটি ভবিষ্যতের আন্দোলনের প্রেরণা।
বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক মাসুদ রানা সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের মৌলিক চরিত্র বদলায়নি। বৈষম্যমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য জনগণকে সংগঠিত করে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।