সমালোচনামূলক পোস্ট শেয়ার
শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ, সেই প্রভোস্টকে তালাবদ্ধ করলেন ডাকসু নেতারা
ফজলুল হক মুসলিম হল
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ০০:১৬ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ০০:১৮
'হলের বাজেট' নিয়ে প্রাধ্যক্ষের সমালোচনা করে দেওয়া ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে। এসময় ভুক্তভোগী ছাত্রকে জোরপূর্বক ফোন করা, জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার সন্ধ্যার পর প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন ডাকসু নেতারা। এ সময় তারা প্রভোস্টের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
রোববার রাত পর্যন্ত প্রভোস্টের কার্যালয়ের ভেতরে অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুন ও একজন সহকারী প্রক্টর ছিলেন। বাইরে অবস্থান করছিলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ, সদস্য আনাস বিন মুনিরসহ একাধিক নেতা।
এর আগে বিকেলে হলের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীম প্রভোস্টের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করার কারণে তাকে প্রভোস্টের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ইব্রাহীম অভিযোগ করেন, এর আগে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকেও একইভাবে প্রভোস্টের কক্ষে ডেকে চিৎকার-চেঁচামেচি করা হয়েছিল। ওই শিক্ষার্থী কাঁদতে কাঁদতে কক্ষ থেকে বের হন বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিষয়টি মাথায় থাকায় প্রভোস্টের কক্ষে প্রবেশের আগে নিজের ফোনে অডিও রেকর্ড চালু করেছিলেন বলে জানান ইব্রাহীম।
ইব্রাহীমের অভিযোগ, কথাবার্তার একপর্যায়ে প্রভোস্ট তার পকেটে থাকা ফোন বের করতে বলেন। তিনি ফোন বের করতে না চাইলে প্রভোস্ট চেয়ার থেকে উঠে এসে জোর করে ফোনটি নিয়ে নেন। পরে তিনি কক্ষ থেকে বের হতে চাইলে দরজা আটকে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রায় দেড় ঘণ্টা তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে দাবি করে ইব্রাহীম বলেন, প্রভোস্টের কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই ঘটনার বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
তার অভিযোগ, এ সময় তাকে হলের সিট বাতিল এবং ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। প্রভোস্ট বলেন, ‘ছাত্রত্ব বাতিল কোনো বিষয় না’ এবং ‘ভিসি স্যারকে একটি আবেদন লিখলেই ছাত্রত্ব বাতিল করে দিতে পারবে’। এ ছাড়া তার ফেসবুক পোস্টের কারণে সাইবার মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইব্রাহীম আরও বলেন, পরে তাকে একটি লিখিত বক্তব্য তৈরি করে হাতে লিখিয়ে তাতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি বাইরে কারও সঙ্গে শেয়ার না করার জন্যও তাকে নিষেধ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুন সমকালকে বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এখানে আছি। এ বিষয়ে পরে জানাব।’
- বিষয় :
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- শিক্ষার্থী
- নির্যাতন