‘সান্ধ্য আইন’ সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি ঢাবি নারী শিক্ষার্থীদের
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৫৮
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নারী শিক্ষার্থীদের হলে রাত ১০টার মধ্যে প্রবেশের সীমা এক ঘণ্টা শিথিল করার প্রশাসনিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে নারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’। তাদের দাবি, নিরাপত্তার অজুহাতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করা কোনো সমাধান নয়; বরং ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান প্ল্যাটফর্মটির নেতারা। প্লাটফর্মটিতে রয়েছেন ডাকসু নির্বাচনে বামপন্থি প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের নারী শিক্ষার্থীসহ অনেকে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৩০ জুলাই থেকে তিন দফা দাবিতে ‘অবরোধবাসিনী’ ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। গত ৯ আগস্ট উপাচার্য বরাবর ১ হাজার ২০০-এর বেশি নারী শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরদিন ১০ আগস্টের সংহতি সমাবেশ থেকে সান্ধ্য আইন বাতিলের বিষয়ে প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রশাসন তাদের দাবি উপেক্ষা করে সান্ধ্য আইন আংশিক শিথিলের প্রস্তাব দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা এ প্রস্তাবকে ‘প্রহসন’, অসম্মানজনক ও আপসমূলক উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইশরাত জাহান ইমু বলেন, প্রশাসনের আংশিক শিথিলের প্রস্তাব নারী শিক্ষার্থীদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার খর্ব করে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।
নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি নিরাপত্তার নামে বৈষম্যমূলক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে অভিযোগ করে তারা বলেন, পুরুষ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা অবাধে চলাচল করতে পারলেও নারী শিক্ষার্থীদের চলাচল সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বাকি সময় সান্ধ্য আইনের অজুহাতে প্রশাসন নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে, যা এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, হলে প্রবেশের বিধিনিষেধের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানেও নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর সময়সীমা আরোপ করা হয়েছে। রাত ১০টার পর ক্যাম্পাসে অবস্থান, কার্জন হল এলাকায় প্রবেশ এবং সন্ধ্যার পর জিমনেশিয়ামের ইনডোর গেমসে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।
রাতে বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে গেলে বা নির্ধারিত সময়ের পর হলে প্রবেশ করতে হলে লিখিত মুচলেকা দিতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। ওই মুচলেকায় ‘নিরাপত্তার দায় বিশ্ববিদ্যালয় নেবে না’—এমন শর্ত যুক্ত থাকে, যা পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব অদিতি ইসলাম ও নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিলা ইসলামও বক্তব্য দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের নারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা কোনো বিশেষ অনুগ্রহ বা সাময়িক শিথিলতা চান না। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা অবাধ চলাচল এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার অধিকার চান শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি, পথসভা ও হলভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ‘অবরোধবাসিনী’ প্ল্যাটফর্মের শিক্ষার্থীরা।
- বিষয় :
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- ঢাবি