জবানবন্দিতে সাবেক এসপি নিজামউদ্দিন
গলিত লাশটি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পেট কাটা ছিল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৫২
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মামলায় ৯ নম্বর সাক্ষ্য দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) নিজাম উদ্দিন হাওলাদার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ রোববার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর জিয়াউল আহসানের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন। এ সময় জিয়াউল আহসান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জবানবন্দিতে নিজাম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ২০১০ সালের ১৭ মে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা থানায় কর্মরত ছিলাম। সেদিন কাজে পুলিশ সুপারের কার্যালয় বাগেরহাটে যাই। বেলা অনুমান ৩টার পর শরণখোলা থানার একজন চৌকিদার ফোন করে জানান, বলেশ্বর নদীর পশ্চিম তীরে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ পড়ে আছে। ওই এলাকাটির নাম চাল রায়েন্দা। লাশটির শরীরে জমাট বাঁধা সিমেন্টের বস্তা বাঁধা ছিল। লাশটি গলিত, পেট কাটা এবং মাথাটি কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। লাশের হাত পা বাঁধা ছিল। এসব তথ্য ওই চৌকিদার ফোনে জানান।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি থানার দায়িত্বে থাকা এসআই ইকবালকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলি। তিনি জিডিমূলে ঘটনাস্থলে যান। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। এরপর চৌকিদার বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করলে এসআই ইকবাল একটি নিয়মিত হত্যা মামলা করেন এবং নিজেই তদন্তভার গ্রহণ করেন। রাতে থানায় ফিরে দেখি, লাশটিতে পচন ধরেছে। পরদিন সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের পর, লাশটি অজ্ঞাত বিধায়, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করা হয়।
সাবেক এসপি আরও বলেন, আনুমানিক দুই দিন পর এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন, প্রাপ্ত লাশটি তার ভাইয়ের। তিনি আরও জানান, অনুমান ২/৩ মাস আগে গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া থেকে তার ভাই অপহৃত হন। আমি তাদের থানায় আসতে বলি। ৪ থেকে ৫ দিন পর ওই মৃত ব্যক্তির দুই ভাই, স্ত্রী এবং চাচা থানায় আসেন। থানায় রক্ষিত মৃত ব্যক্তির শার্ট ও প্যান্ট দেখে তাকে শনাক্ত করেন। আমি তাদের জানাই, অজ্ঞাত হওয়ার কারণে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে লাশটি বাগেরহাট কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তারা লাশটি নিজেদের এলাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে চান। লাশটি সম্পর্কে আগতরা বলেন, লাশটি একজন সাবেক বিডিআর সদস্যের। তার নাম নজরুল ইসলাম। পিলখানা ঘটনার পর তিনি পলাতক অবস্থায় গোপালগঞ্জের একটি ক্লিনিকে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জবানবন্দিতে নিজাম উদ্দিন হাওলাদার আরও বলেন, লাশ প্রাপ্তির ৪/৫ দিন পর খুলনা বিডিআর সেক্টর থেকে একজন কর্নেল ফোন দিয়ে লাশের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। তিনি আরও বলেন যে, একজন বিডিআর সদস্য আসবে, তাকে যেন কাগজপত্র দিয়ে সহায়তা করি।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার ঘটনায় তিনটি অভিযোগ এনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর ১৪ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
- বিষয় :
- আওয়ামী লীগ