ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভয়েস ফর রিফর্মের গোলটেবিলে বক্তারা

তড়িঘড়ি নয়, ভেবেচিন্তে মক্কা চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত

তড়িঘড়ি নয়, ভেবেচিন্তে মক্কা চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ২১:০৩

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ আমন্ত্রণ পেলে বাংলাদেশ যোগ দেবে কী না, এই সিদ্ধান্ত তড়িঘড়ি নয় ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত। মক্কা চুক্তিতে যোগ দিলে তা যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তেমননি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও কার্যকর কূটনৈতিক প্রস্তুতির ভিত্তিতে।

‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান: কৌশলগত নিরাপত্তার হিসাব-নিকাশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেছেন নিরাপত্তা এবং ভূরাজনীতি বিশ্লেষকরা। ভয়েস ফর রিফর্ম সোমবার রাজধানীর কাওরান বাজারে বিডিবিএল ভবনে এই সেমিনার আয়োজন করে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর। এতে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী। আলোচক হিসেবে অংশ নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন এফ. ড্যানিলোউইজ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী; জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এতদিন রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও কূটনৈতিক বৃত্তেই সীমাবদ্ধ ছিল; অথচ জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে নাগরিক সমাজের মতামত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। নাগরিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়ে এটিই প্রথম আলোচনা।

প্রবন্ধে বলা হয়, মক্কা চুক্তির কেন্দ্রীয় ধারা অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী এক দেশ আক্রান্ত হলে, তা অন্য সবার ওপর আক্রমণ বলে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু চুক্তির কমান্ড কাঠামো, সামরিক সহায়তার পরিমাণ, পারস্পরিক পরামর্শের প্রক্রিয়া এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির পদ্ধতি— কোনোটিই এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পরিস্থিতিতে সদস্য দেশের দায় কী হবে, প্রকাশিত দলিলে তা বলা হয়নি। যদিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মক্কা চুক্তিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার কথা বলছে।

বক্তাদের কয়েকজন বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়– তাই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিরাপত্তা কবচ হতে পারে। তবে কোনো কোনো বক্তা বলেন, তড়িঘড়ি না করে আরও ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারণ চুক্তিতে যোগ দিলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দিক থেকে কিছু নতুন নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ফজলে এলাহী আকবর বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যাতে অংশ নেয়, এ বিষয়ে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের খুবই আগ্রহী হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে এখনো পরিষ্কার অবস্থান না নিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাই বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র– এই দুই পরাশক্তিরই সমর্থন পাবে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশকে ঝাঁপিয়ে পড়ার কিছু নেই।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে এক সময়ে উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জন ড্যানিলোউইজ বলেন, এখন পর্যন্ত মক্কা চুক্তির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইতিবাচক। তবে এই জোটে মিসর, জর্ডান বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ যোগ দেবে কী না, এর ওপর আরও কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। যেহেতু তুরস্ক ও ইসরায়েল বর্তমানে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে, তাই জোটের সম্প্রসারণ ও অতিরিক্ত ক্ষমতায়নের বিষয়ে সতর্ক থাকবে।

তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশের তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। সংসদ ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা এবং জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করা জরুরি।

এক দেশ আক্রান্ত হলে সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য হবে এ ধারার কারণে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের সমালোচনা করছেন অনেকে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, এতে কোনো দেশের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় না।

গোলটেবিলে আরও বক্তৃতা করেন এফএসডিএস-এর প্রিন্সিপাল রিসার্চ ফেলো ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাফায়াত আহমেদ, নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির (অব.); সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী; এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন; ডেইলি ওয়াদার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×