বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহতের ঘটনায় তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:৩৩
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় কুইক রেসপন্স ফোর্সের (কিউআরএফ) দায়িত্ব পালনের সময় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিন সদস্য নিহত ও চারজন আহতের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন— ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, কর্পোরাল মনিরুজ্জামান পিয়াস ও লিডিং এয়ারক্রাফটম্যান (এলএসি) মো. জুবাইদুল ইসলাম।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জানিয়েছে, গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় কিউআরএফের দায়িত্ব পালনকালে বিমানবাহিনীর সাত সদস্যকে বহনকারী একটি জিপ দুর্ঘটনায় পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকায় সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আহত চার সদস্য বর্তমানে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন।
নিহত তিন সদস্যের নামাজে জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকারের (কুর্মিটোলা) সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে সামরিক মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এ সময় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিহতদের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। জানাজার সময় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শেষে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিদল যথাযথ সামরিক মর্যাদায় তাঁদের দাফন সম্পন্ন করেন।
বিমানবাহিনী জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে বিমানবাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মর্মান্তিক এ ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা এবং আহত সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, পিকআপটির চালকের অদক্ষতা কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, চালক কতটা দক্ষ ছিলেন, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি কত ছিল এবং এর পেছনে কোনো কারিগরি বা অবকাঠামোগত কারণ ছিল কি না—তদন্ত কমিটি এসব বিষয় খতিয়ে দেখবে।
- বিষয় :
- বিমান বাহিনী
- সদস্য
- নিহত
- তদন্ত কমিটি গঠন