সরকারি চাকরির নিয়োগ
পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির বিরোধিতা জামায়াতের
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:৪২
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০ গ্রেডের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বৃদ্ধি এবং লিখিত পরীক্ষার পাস নম্বর কমানোর সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। একে মেধার পরিবর্তে কোটার দিকে ধাবিত হওয়া বলে আখ্যা দিয়েছে। মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অর্ডারে এই কথা বলেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ। যদিও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পয়েন্ট অর্ডারটি গ্রহণ করেননি।
১০ গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারী নিয়োগ হয় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের নিয়োগ হয় মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়োগ বিধিতে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমিয়ে বিধিমালা পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দুর্নীতি আরও সহজ হবে বলে মনে করেন জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্টরা।
তা সংসদে তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বর্তমানে ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হয়। ১০ নম্বরের ভাইভা হয়। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ৫০-৫০ নম্বর রাখার মাধ্যমে দলীয়করণ ও স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মেধার পরিবর্তে কোটার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার প্রক্রিয়ার দিকে বর্তমান ব্যবস্থাপনা ধাবিত হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, খুবই শঙ্কার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রক্সি পরীক্ষা বা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি দেখিয়ে প্রশাসনিকভাবে উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রশাসনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণের রাস্তা সুগম হবে।
বিদ্যমান ও প্রস্তাবিত নম্বর বিভাজন তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ১১ থেকে ১২তম গ্রেডে আগে লিখিত পরীক্ষায় ৯০ শতাংশ এবং ভাইভার ১০ শতাংশ নম্বরের বিভাজন ছিল। যা ৬৬.৬৬-৩৩.৩৩ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে আগে ১০ থেকে ৯০ শতাংশের বিভাজন থাকলেও তা পরিবর্তন করে ৪০ ও ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে আগে ১০ থেকে ৪০ শতাংশের বিভাজন থাকলেও এখন তা পরিবর্তন করে ৫০-৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বলেন, সংসদের চলমান বিষয়ের ওপর কোনও মন্তব্য থাকলে, কোনও ভুল হলে কিংবা সংসদের নিয়ম ভঙ্গের মতো কোনও বিষয় থাকলে সদস্যরা এভাবে বক্তব্য দিতে পারেন পয়েন্ট অব অর্ডারে। নিয়োগ বিধি নিয়ে কোনও আলোচনা তো হচ্ছে না এখন সংসদে। সুতরাং এটি পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না।