ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপি সরকারের ৭ মাসে তেলের দাম বাড়ল ৩৫-৪৫ টাকা

বিএনপি সরকারের ৭ মাসে তেলের দাম বাড়ল ৩৫-৪৫ টাকা
×

জ্বালানির এই মূল্য বৃদ্ধিতে পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বাড়তে পারে

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:১২ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:২৫

জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ল। ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন– চার ধরনের তেলের দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে বিএনপি সরকারের সময়ে দাম বাড়ল ৩৫-৪৫ টাকা। জ্বালানির এই মূল্য বৃদ্ধিতে পরিবহন, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি এর চাপ নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে।

১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ১০০, ১১২, ১১৬ ও ১২০ টাকা।  এই দাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হয়েছিল। মার্চ ও এপ্রিলের শুরুতে এই দামই বহাল ছিল।  এপ্রিলের মাঝামাঝি হুট করে বড় ধরনের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বাড়তে থাকায় ১৮ এপ্রিল রাতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। 

ওই সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম মার্চের শেষ দিকে প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয়। এতে দাম দাঁড়ায় যথাক্রমে ১১৫, ১৩০, ১৩৫ ও ১৪০ টাকা। গত জুনে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম আরও পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়। ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। জুনের নতুন দামই জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে শুরুতে বহাল ছিল। রোববার আবার এক লাফে চার ধরনের তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ল।

এই দাম কার্যকর হলে গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় ডিজেলের দাম ৩৫ টাকা, কেরোসিন ৪৩, পেট্রোল ৪৪ এবং অকটেন ৪৫ টাকা বাড়বে। অর্থাৎ বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাত মাসে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আজ সোমবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হলো। এটা দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রোল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা এখনও অব্যাহত। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৪৪ থেকে বেড়ে ১০৬ টাকা ৭৫ পয়সা হয়। অর্থাৎ দাম বাড়ে ১৪২ শতাংশ। পেট্রোল ও অকটেনের দাম যথাক্রমে ৭৪ ও ৭৭ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ ও ১২৭ টাকা হয়; বৃদ্ধি প্রায় ৬৫ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপের যুক্তিতে কয়েক দফা দাম বাড়ানো হয়। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২০২২ সালের ৫ আগস্ট। ওই রাতে চার ধরনের জ্বালানির দাম ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। অকটেনের দাম ৫১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ৫১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছিল। এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে ডিজেলের দাম এক লাফে ১৫ টাকা বাড়ে। ২০২৪ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় মাসিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু হয়। 

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিলিয়ে কয়েক দফা দাম সমন্বয় করা হয়। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে অকটেন ও পেট্রোলের দাম ৬ টাকা এবং ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১ টাকা ২৫ পয়সা কমে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার ধরনের তেলের দাম ১ টাকা করে বাড়লেও জুনে ডিজেল ২ টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেন ৩ টাকা করে কমে। ডিসেম্বরে আবার চার ধরনের তেলের দাম ২ টাকা করে বাড়ে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আরও দুই দফায় লিটারপ্রতি ২ টাকা করে কমানো হয়। ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ সমন্বয়ের পর ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২, পেট্রোল ১১৬ এবং অকটেন ১২০ টাকা। 

আরও পড়ুন

×