ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার পথ খুঁজতে জাতীয় সমীক্ষা হচ্ছে 

টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার পথ খুঁজতে জাতীয় সমীক্ষা হচ্ছে 
×
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৩০ | আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:৪৯

বিদ্যুৎ বিভাগ, এইচএসবিসি বাংলাদেশ এবং দি কার্বন ট্রাস্ট যৌথ উদ্যোগে  বাংলাদেশের জ্বালানি খাত নিয়ে একটি জাতীয় সমীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং আরও টেকসই ও স্থিতিস্থাপক জ্বালানি ব্যবস্থার রূপান্তরে সহায়তা দেওয়া। 

গত মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিভাগের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজার সভাপতিত্বে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। সভায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, এইচএসবিসি এবং দি কার্বন ট্রাস্ট টিমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দি কার্বন ট্রাস্ট হলো জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের একটি বৈশ্বিক দল, যাদের লক্ষ্য একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক ও স্বল্প-কার্বন ভবিষ্যতের রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করা। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকার, সরকারি খাতের সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তাদের ২৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এইচএসবিসি বাংলাদেশ গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এ সমীক্ষার উদ্দেশ্য হলো একটি অধিক সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যকর পথ অনুসন্ধান। সমীক্ষায় বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা, ভবিষ্যতের বিদ্যুতের চাহিদা যাচাই এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শক্তি সঞ্চয় ও অন্যান্য স্বল্প-কার্বন প্রযুক্তি কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে পারে তা মূল্যায়ন করা হবে। 

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মতে, বাংলাদেশ সরকারের জন্য ব্যয়-সাশ্রয়ী পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সমাধান এবং প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাব্য পথ চিহ্নিত করা এ সমীক্ষার লক্ষ্য। তথ্য বিশ্লেষণ, অংশীজনদের সম্পৃক্ততা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে  সমীক্ষাটি ভবিষ্যতের জ্বালানি পরিকল্পনা প্রণয়নে ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশকে একটি স্থিতিস্থাপক বিদ্যুৎ খাতে রূপান্তরের রোডম্যাপ দেবে। 

জলবায়ু ও জ্বালানি রূপান্তর-সংক্রান্ত সমাধান অনুসন্ধানে সরকার এবং সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে এইচএসবিসি এ সমীক্ষায় সহায়তা করছে। সহায়তা প্রদান ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানে ব্যাংকটি দি কার্বন ট্রাস্টের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে।

সভায় কেএম আলী রেজা বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষার সূচনা, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশের জ্বালানি মিশ্রণের সম্ভাব্য দিকগুলো খতিয়ে দেখবে। আমরা দি কার্বন ট্রাস্ট এবং এইচএসবিসির সঙ্গে অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানাই এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য আরও সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব, নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত পথ খুঁজে পেতে আশাবাদী।’

এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের জন্য জাতীয় জ্বালানি সমীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ, যার অংশীদার হতে পেরে এইচএসবিসি গর্বিত। 

তিনি বলেন, ‘দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং স্থিতিস্থাপকতার জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা মৌলিক একটি বিষয়। এই সমীক্ষার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ সরকারকে একটি দূরদর্শী ও টেকসই জ্বালানি কৌশল প্রণয়নে সহায়তার পাশাপাশি দেশে পরিচালিত আমাদের গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা পূরণে পাশে থাকার আশা করছি।’

দি কার্বন ট্রাস্টের জ্বালানি রূপান্তর বিষয়ক পরিচালক অ্যান্ড্রু লিভার বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি রূপান্তর, গ্রিড আধুনিকায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংহতকরণে আমাদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক এবং কার্বনমুক্ত জ্বালানি ভবিষ্যতের কার্যকর পথ নির্ধারণে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা করতে আমরা উন্মুখ।’

আরও পড়ুন

×