শিশুশ্রম বন্ধে প্রয়োজনে নতুন আইনের উদ্যোগ নেওয়া হবে: ডেপুটি স্পিকার
কেআইবি মিলনায়তনে ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:০৯
শিশুশ্রম নিরসনে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, শিশুদের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সংসদে বিদ্যমান আইন সংশোধন কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্লাটফর্ম (ক্লেপ)-এর সহযোগিতায় উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট’ (এএসডি) আয়োজিত ‘শিশুশ্রম নিরসনে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’ তিনি ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে গৃহকর্মে নিয়োগ না করার জন্য সবাইকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশে অনেক ভালো আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগের অভাব রয়েছে। আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে প্রভাবশালীদের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীদের পাশাপাশি সরকারের নির্বাহী বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও জবাবদিহিত নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের করের টাকায় যারা বেতন পান, তাদের কর্মকাণ্ডের যথাযথ তদারকি থাকতে হবে। একটি কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাহী বিভাগের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা ও কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।
পথশিশুদের বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পথশিশুদের দাওয়াত দিয়ে খাইয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন যে, পথশিশুরাও একটি সুন্দর জীবনের দাবিদার। পর্যায়ক্রমে তাদের রাস্তা থেকে ঘরে ফেরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশে একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি।’ এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে যেন রাজনীতিকরণ করা না হয়, সে আহ্বানও জানান তিনি।
এএসডির নির্বাহী পরিচালক এম এ করিমের সভাপতিত্বে ও এএসডির অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ শাহিনুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল, সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন, আন্না মিনজ ও শওকত আরা আক্তার।
আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের উপ-পরিচালক এম. রবিউল ইসলাম, চাইল্ড লেবার ইলিমিনেশন প্লাটফর্ম (ক্লেপ)-এর সদস্য এ কে এম মাকসুদ, আইএলওর জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী সৈয়দা মুনিরা সুলতানা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক পাবলো নেরুদা, শাপলা নীড় বাংলাদেশের মাহফুজা পারভীন, এএসডির কর্মসূচি পরিচালক লুৎফুন নাহার কান্তা, প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউ কে এম ফারহানা সুলতানা এবং স্ক্যানের সহ-সভাপতি আফতাবুজ্জামান প্রমুখ।