এআই ব্যবহারের আগে রাষ্ট্রীয় সেবা ব্যবস্থা সংস্কার জরুরি
দুর্বল ব্যবস্থা রেখে প্রযুক্তি আনলে পুরোনো সমস্যাই বাড়বে
‘ক্যান অ্যালগরিদমস বিল্ড ট্রাস্ট? রিথিংকিং স্টেট ক্যাপাসিটি ইন দ্য এজ অব এআই’ শীর্ষক অধিবেশন (ছবি-সংগৃহীত)
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২১ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সরকারি সেবার দুর্বল ও পুরোনো ব্যবস্থা সংস্কার না করে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করলে মানুষের আস্থা তৈরি হবে না; বরং যে ব্যবস্থায় ঘুষ, তথ্যের ঘাটতি ও জবাবদিহির সংকট রয়েছে, সেখানে প্রযুক্তি যুক্ত হলে সেই সমস্যাই নতুন রূপে আরও দ্রুত ছড়াতে পারে। এ জন্য এআই ব্যবহারের আগে রাষ্ট্রীয় সেবা ব্যবস্থার সংস্কার, স্থানীয় ও মানসম্মত তথ্য নিশ্চিত করা এবং তথ্য ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর শেষ দিনের এক অধিবেশনে এসব কথা উঠে আসে। ‘ক্যান অ্যালগরিদমস বিল্ড ট্রাস্ট? রিথিংকিং স্টেট ক্যাপাসিটি ইন দ্য এজ অব এআই’ শীর্ষক অধিবেশনে সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা, প্রস্তুতি ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা।
পাকিস্তানের সরকারি ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে অ্যাকাউন্টেবিলিটি ল্যাব পাকিস্তানের নির্বাহী পরিচালক ফাইয়াজ ইয়াসিন বলেন, সেখানে অধিকাংশ সরকারি সিদ্ধান্ত তথ্যভিত্তিক নয়। অথচ এআই কার্যকর করতে হলে আগে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার ঘাটতি থাকায় এআই সমস্যা সমাধানের গতি বাড়াবে, নাকি সমস্যা সমাধান না করার নতুন অজুহাত হবে–সেই প্রশ্নও রয়েছে।
তাঁর মতে, এআই ব্যবহারের আগে সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে, তারা এই প্রযুক্তির কাছ থেকে কী চায়। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা, আমলাতন্ত্র ও সাধারণ মানুষকেও প্রযুক্তিটি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
প্রযুক্তি দিয়ে পুরোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ঢেকে রাখার বিপদ তুলে ধরেন সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স বাংলাদেশের পরিচালক শেখ মোহাম্মদ দানিয়াল। এআইয়ের ফলাফল কতটা নির্ভরযোগ্য হবে, তা ব্যবহৃত তথ্যের মানের ওপরও নির্ভর করবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও এআই গবেষক শিমেলসে মেকোনেন। শুধু প্রযুক্তি তৈরি করলেই মানুষের আস্থা পাওয়া যাবে না– এ কথার সঙ্গে নাগরিক অংশগ্রহণের বিষয়টিও যুক্ত করেন সোলশেয়ারের প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা সেবাস্তিয়ান গ্রোহ।
অ্যাকাউন্টেবিলিটি ল্যাব নেপালের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক নারায়ণ অধিকারী বলেন, নতুন প্রযুক্তি তৈরি করাই শেষ কথা নয়; সেটি মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাচ্ছে কিনা, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। অধিবেশন পরিচালনা করেন শপআপ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মামুন রশীদ।