ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান শহীদের স্বজনরা

জুলাই অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চান শহীদের স্বজনরা
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চেয়েছেন অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহতরা। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তির আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানের তপশিল বা সংশ্লিষ্ট জায়গায় গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি এবং দায়মুক্তির সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এসব দাবি উঠে আসে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাইযোদ্ধা মিলিয়ে মোট ৬৩ জন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চেয়েছেন। বিশেষ করে জুলাই ঘোষণাপত্রের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংবিধানের উপযুক্ত জায়গায় ধারণ করার দাবি করেছেন তারা। আমরা বলেছি, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও শক্তি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, সেভাবেই আমরা ব্যবস্থা নেব। গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের জন্য দায়মুক্তির আইন করা হয়েছে এবং সংবিধানের নির্দিষ্ট জায়গায় তা ধারণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এমনভাবে পুনঃস্থাপন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার বা সংসদ চাইলেই তা সহজে বাতিল করতে না পারে। পরে এটি সরাতে হলেও গণভোটের প্রয়োজন হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সর্বশেষ শর্ত হিসেব রাষ্ট্রপতি এই সরকারের প্রধান হতে পারবেন না, সে বিষয়ে কমিটির সুস্পষ্ট মতামত রয়েছে বলেও জানান তিনি। 
কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নুর এবং সাকিলা ফারজানা অংশগ্রহণ করেন।

জুলাইযোদ্ধাদের আরও যত দাবি 
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের প্রতিনিধি ও আহতরা গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও ঘোষণাপত্র সংবিধানের উপযুক্ত অংশে স্থায়ীভাবে ধারণ করার দাবি জানান। জুলাইযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও আইনগত জটিলতা নিরসন এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবিও জানান। এ সময় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব ও মতামত উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাজনীতিতে তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রস্তাবও করা হয়।

জুলাইযোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি
জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, বৈঠকে শহীদ পরিবার ও আহতদের পক্ষ থেকে যেসব দাবি এসেছে, সেগুলো কমিটির প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ করা হবে। গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্রে থাকা অনেক বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোও স্বীকার করেছে। এসব বিষয় সংবিধানে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। এক্ষেত্রে সংবিধানের তপশিলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে জুলাইযোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে গণঅভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ীদের বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দাবি এসেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটা সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরই দাবি। সরকার বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আন্তরিক। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে চলছে, আদালত নির্ধারিত আইন অনুযায়ী কাজ করবে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষর হয়েছে, সেভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতগুলো বাদ দিয়ে তা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবার মতামতই ধারণ করার চেষ্টা করবে বিশেষ কমিটি।

গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লংমার্চ করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। যে কেউ তা করতে পারেন। তবে লংমার্চ বা অন্য কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে তো আর সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। অবশ্যই সংসদীয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সেটি করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে কমিটির সুস্পষ্ট মতামত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি যাতে বিতর্কিত না হয়, সেজন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় তাঁকে যুক্ত না রাখার বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনপ্রক্রিয়ায় সর্বশেষ শর্ত হিসেবে রাষ্ট্রপতি যেন ওই সরকারের প্রধান না হন, এমন অবস্থানে এখনও আছি আমরা। 

আরও পড়ুন

×