ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইয়াবা বিক্রির তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার সন্দেহে হত্যা

আড়াই বছর পর জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করলো পিবিআই

ইয়াবা বিক্রির তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার সন্দেহে হত্যা
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:১০

ঢাকার নবাবগঞ্জে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হত্যা করা হয় অটোরিকশাচালক রাহুলকে (১৯)। এ ঘটনার আড়াই বছর পর হত্যা ও অটোরিকশা ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

ইয়াবা বিক্রির তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার সন্দেহে রাহুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তাররা হলেন—নবাবগঞ্জের পাতিলঝাপ এলাকার মো. সমেজ (৩২), মো. সবুজ মিয়া (২৮), সিংহড়া এলাকার খবির ওরফে গোবিন্দ (২৮), মো. হাবিব ওরফে সজল (৩৬) এবং লালন মোল্লা (৪৩)। তাদের মধ্যে সবুজ ও লালন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার উত্তরা পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ। তিনি বলেন, নিহত রাহুল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পূর্বপরিচিত ছিলেন। গ্রেপ্তার লালন মোল্লা ইয়াবা বিক্রি করতেন। রাহুলসহ অন্যরা তার কাছ থেকে ইয়াবা কিনে সেবন করতেন। একপর্যায়ে লালনের সন্দেহ হয়, তার ইয়াবা বিক্রির তথ্য রাহুল বিভিন্ন জায়গায় ফাঁস করে দিতে পারেন। এ সন্দেহ থেকেই রাহুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে সবুজ রাহুলকে অটোরিকশাসহ একটি খোলা মাঠে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে লালন, সবুজ, সজল, সমেজ ও গোবিন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে রাহুলকে ইয়াবা সেবন করানো হয়। পরে লোহার অ্যাংগেল দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করা হয়। এরপর ব্লেড দিয়ে কান ও মুখে জখম এবং অটোরিকশার ব্যাটারি দিয়ে মুখে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে জানায় পিবিআই।

পিবিআই জানায়, হত্যার পর রাহুলের মরদেহ অটোরিকশায় করে সজলের গরুর খামারে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন মরদেহটি রাখা হয়। পরে ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার পর নবাবগঞ্জের চক সিংহড়া এলাকার একটি ওয়ার্কশপের পাশে মরদেহ ফেলে রাখা হয়।

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে অটোরিকশা নিয়ে ওয়ার্কশপে ঘুমাতে গিয়েছিলেন রাহুল। পরদিন সকালে তাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজখুজি শুরু করেন। এ সময় তার অটোরিকশা ও মোবাইল ফোনও পাওয়া যায়নি। পরে ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে ওয়ার্কশপের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে একটি জমির আইলের ঝোপ থেকে রাহুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রাহুলের বাবা মো. আব্দুর রহমান নবাবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। প্রথমে থানা পুলিশ এবং পরে পিবিআই মামলাটি তদন্ত করে। তদন্তের প্রথমে মো. সমেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবুজ মিয়াকে, পরে খবির ওরফে গোবিন্দ, হাবিব ওরফে সজল এবং লালন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পিবিআই জানায়, সবুজ ও লালন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যার পর রাহুলের অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেয় আসামিরা। বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে পিবিআই। মামলার তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×