ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

দেশে চোখের সমস্যায় ৭৪ লাখ মানুষ, বড় কারণ ছানি

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে সভা

দেশে চোখের সমস্যায় ৭৪ লাখ মানুষ, বড় কারণ ছানি
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে প্রায় ৭৪ লাখ মানুষ গুরুতর দৃষ্টি সমস্যায় ভুগছেন। তাদের একটি বড় অংশের প্রধান কারণ চোখের ছানি। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছানি পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব হলেও তৃণমূল পর্যায়ে চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ সীমিত থাকায় অনেকে সময়মতো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।     সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে প্রতিসরণজনিত ত্রুটি এবং বয়স্কদের মধ্যে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো চোখের সমস্যা বাড়ছে। দৃষ্টিশক্তি হারানোর প্রভাব শুধু চোখের আলো হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান, সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়ও জড়িত।’    

প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভিশন সেন্টার স্থাপন ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষু সেবা পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ‘দেশের চক্ষু চিকিৎসাব্যবস্থা এখনও রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক। তাই প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় চক্ষু চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ‘বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটির বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের চোখের সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি মানুষের দৃষ্টিজনিত সমস্যা যথাযথ চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘সরকারি লক্ষ্য অনুসারে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ছানিজনিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা পুরোপুরি দূর করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও তৃণমূল পর্যায়ে বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার ও চশমা বিতরণের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।’

শিশুদের চোখের সুরক্ষায় বিদ্যালয়ভিত্তিক নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে চোখের যত্ন নিশ্চিত করতে কলকারখানা ও অফিসে নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ডিজিটাল পর্দার অতিরিক্ত ব্যবহারে চোখের ওপর চাপ কমাতে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ২০ মিনিট পরপর অন্তত ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হয়।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ দৃষ্টিহীন ফাউন্ডেশনের সদস্য ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

আরও পড়ুন

×