ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কেউ খুঁজছেন পণ্য, কেউ প্রযুক্তি কারও লক্ষ্য নতুন বাজার

কেউ খুঁজছেন পণ্য, কেউ প্রযুক্তি কারও লক্ষ্য নতুন বাজার
×
×

 জাহিদুর রহমান, গুয়াংজু (চীন) থেকে

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

পণ্য দেখতে দেখতে এক স্টল থেকে আরেক স্টলে ছুটছেন ক্রেতারা। কোথাও আধুনিক যন্ত্রপাতি, কোথাও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, আবার কোথাও নতুন প্রজন্মের ইলেকট্রনিকস ও স্মার্ট প্রযুক্তির প্রদর্শনী। কোনো স্টলে পণ্যের দাম ও উৎপাদনক্ষমতা নিয়ে চলছে আলোচনা, কোনো স্টলে সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য বিনিময় করছেন ক্রেতারা। 

চীনের গুয়াংজুতে চলছে ১৪০তম চায়না ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার (ক্যান্টন মেলা)। মেলার বিভিন্ন প্যাভিলিয়নে নানা দেশের ক্রেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দেখা মিলছে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে ক্যান্টন ফেয়ারের আকর্ষণ শুধু পণ্যের দাম নয়। কোন পণ্য আগামী দিনে বাজারে জনপ্রিয় হতে পারে, কোন প্রযুক্তি দেশের ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং কীভাবে মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে পণ্য কেনা যায়, সেই খোঁজও তাদের এই মেলায় নিয়ে এসেছে।

১৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। তিন পর্বের এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছে ৩২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান! আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭ দেশ ও অঞ্চল থেকে ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি বিদেশি ক্রেতা এ মেলার জন্য নিবন্ধন করেছেন। মেলার প্রথম পর্বে উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস, কৃষি যন্ত্রপাতি, যানবাহন ও শিল্পপণ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের বাজারে চীনা পণ্যের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রপাতি, শিল্পকারখানার সরঞ্জাম, গৃহস্থালি পণ্য, বৈদ্যুতিক সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ আমদানিতে চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৮ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে চীন থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ১৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বিপরীতে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক আবু হেনা মোস্তফা কামাল পান্না বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ক্যান্টন ফেয়ারের মতো আন্তর্জাতিক মেলা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য চীনা সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান পলি জিনহান এক্সিবিশনের পরিচালক নিকোল ফ্যান বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও চীনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি উদ্যোক্তা অংশ নিলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।
বাংলাদেশের বগুড়া থেকে আসা কৃষি উদ্যোক্তা রেজওয়ান হোসেন বলেন, চীনা ভাষায় যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা অনেক বিদেশি ক্রেতার জন্য বড় সমস্যা। পণ্যের কারিগরি বিবরণ, উৎপাদনের শর্ত কিংবা সরবরাহের সময় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলে ব্যবসায়িক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য দোভাষী ও ব্যবসায়িক সহযোগীর সহায়তা দরকার। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য গুয়াংজুর ক্যান্টন ফেয়ার নতুন পণ্য, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক যোগাযোগের বড় সুযোগ। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রয়োজন সুস্পষ্ট পরিকল্পনা। কোন পণ্যের চাহিদা দেশে বাড়ছে, কোন প্রযুক্তি উৎপাদন খরচ কমাতে পারে এবং কোন চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব, তা যাচাই করেই এগোতে হবে।

আরও পড়ুন

×