ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনজির বদলে অটোগ্যাস

সিএনজির বদলে অটোগ্যাস
×

সবুজ ইউনুস

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:৩৩

পরিবহনে জ্বালানি ব্যবহারে অনেকটা নীরবে এক প্রকার বৈপ্লবিক পরিবর্তন হচ্ছে সারাদেশে। সিএনজির জায়গা দখল করে নিচ্ছে অত্যাধুনিক পরিবেশবান্ধব জ্বালানি অটোগ্যাস বা এলপিজি।

কৃত্রিমভাবে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস সিএনজির (কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) জায়গা দখল করে নিচ্ছে অটোগ্যাস বা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস-এলপিজি (লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস)। ঢাকাসহ সারাদেশে বর্তমানে শতাধিক অটোগ্যাস স্টেশন চালু হয়েছে। কয়েক হাজার গাড়ি এখন এই অটোগ্যাসেই চলছে। সিএনজির চেয়ে এলপিজি বা অটোগ্যাস অনেক বেশি ব্যয়সাশ্রয়ী এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারও চায় ক্রমেই সিএনজি স্টেশনগুলো অটোগ্যাসে রূপান্তরিত হোক। এতে জ্বালানি খরচ কমবে। গাড়ি ব্যবহারকারীদের লাভ হবে। একই সঙ্গে সরকারেরও ব্যয় সাশ্রয় হবে।

অটোগ্যাস কী :ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন এমনকি সিএনজির চেয়ে উন্নত বিশ্বে পরিবহনে বেশি ব্যবহার হচ্ছে এই অটোগ্যাস। কারণ, এটি সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব এবং ব্যয়সাশ্রয়ী। অটোগ্যাস আসলে এলপিজি, যা আমরা রান্নার সিলিন্ডার গ্যাস হিসেবে ব্যবহার করি। এই গ্যাসই পরিবহনে ব্যবহার করা হয় ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে; বলা হয় অটোগ্যাস। পাশের দেশ ভারতেও ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয় এই অটোগ্যাস।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা জানান, মাটির অনেক গভীর থেকে গ্যাস তোলা হয়। ওই গ্যাস প্রাথমিক অবস্থায় ব্যবহার উপযোগী থাকে না। গ্যাসক্ষেত্রের ভূপৃষ্ঠে একটি প্রসেস প্লান্ট থাকে। কূপ থেকে তোলা গ্যাস ওই প্লান্টে প্রক্রিয়াকরণ এবং কেমিক্যাল মিশিয়ে পাইপলাইনে দেওয়া হয়। যাকে বলা হয় ন্যাচারাল গ্যাস। এটা আমরা শিল্প কারখানা, বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে ব্যবহার করে থাকি। এই ন্যাচারাল গ্যাসকেই আবার ব্যবহারের স্বার্থে বিভিন্ন ফর্মে রূপান্তর করা হয়। যেমন এলএনজি (লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস)। পাইপলাইনে ন্যাচারাল গ্যাস পরিবহন করা সহজ। কিন্তু পাইপলাইন সুবিধা না থাকলে তখন ন্যাচারাল গ্যাসকে কৃত্রিমভাবে তরল করা হয় পরিবহনের স্বার্থে। এটাকেই বলা হয় এলএনজি। যেমন বাংলাদেশ বর্তমানে কাতার থেকে সাগরপথে জাহাজে করে এলএনজি আমদানি করছে। মহেশখালীতে সাগর উপকূলে স্থাপিত প্লান্টে ওই এলএনজি ফের ন্যাচারাল গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনে দেওয়া হচ্ছে। সেই গ্যাস আমরা পাইপলাইনের সাহায্যে ব্যবহার করছি। আমাদের খনি থেকে উৎপাদিত গ্যাস ও আমদানি করা গ্যাস একসঙ্গে মিশে পাইপলাইনের মাধ্যমে তা শিল্প কারখানা এবং বাসাবাড়িতে ব্যবহার হচ্ছে।

প্রশ্ন হলো- এলপিজি কী? এটাও একটি খনিজ জ্বালানি। আমাদের দেশের বেশ কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস তোলার সময় সামান্য পরিমাণ কনডেনসেট উঠে আসে। এই কনডেনসেট হলো জ্বালানি তেলের উপজাত। গ্যাসক্ষেত্রের ওপরে যে প্রসেস প্লান্ট আছে, সেই প্লান্টের সাহায্যে এই কনডেনসেট ভিন্ন পাইপলাইনে নিয়ে আলাদাভাবে মজুদ করা হয়। চট্টগ্রামে আমাদের তেল শোধনাগার আছে। বিদেশ থেকে ক্রুড বা অপরিশোধিত তেল আমদানি করে সেখানে শোধন করে পেট্রোল, অকটেনসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করা হয়। এই কনডেনসেটও শোধনাগারে শোধন করা হয়। এ সময় কনডেনসেট থেকে সামান্য এলপিজি বা লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস পাওয়া যায়। তবে এর পরিমাণ খুবই কম। মূলত ৯৫ শতাংশ এলপিজিই আমদানি করা হয়। এলপিজি আমদানি করে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি বোতলজাত বা সিলিন্ডারে ভরে তা বিক্রি করে। এলপিজি মূলত রান্নার কাজেই বেশি ব্যবহার হয়। ক্রমেই পরিবহনে এর ব্যবহার বাড়ছে। সরকারও চায় পরিবহন খাত সিএনজি থেকে এলপিজিতে রূপান্তর হোক। এতে সিলিন্ডার বিস্ম্ফোরণের ঝুঁকি কমবে। ব্যয়ও সাশ্রয় হবে। ভালো হবে পরিবেশের জন্যও।

অটোগ্যাসের উপকারিতা :সিএনজি ইঞ্জিনের জন্য বেশ ক্ষতিকর। সাধারণত আমাদের দেশে যে গাড়িগুলো আমদানি করা হয়, সেগুলো তরল জ্বালানি দিয়ে চালানোর জন্য তৈরি। সিএনজি গ্যাস শুস্ক হওয়ায় ইঞ্জিনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কিন্তু অটোগ্যাসে সে ক্ষতি হয় না। এ জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই অটোগ্যাস বা এলপিজি।

অটোগ্যাস উন্নত বিশ্বের প্রধানতম জ্বালানি। অকটেনের সঙ্গে তুলনা করলে এলপিজিতে খরচ কম হবে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। সিএনজি কিটস এবং সিলিন্ডারের যে খরচ, তার চেয়ে এলপিজি সিলিন্ডার এবং কিটস সস্তা। সিএনজির সিলিন্ডারের চেয়ে অটোগ্যাস সিলিন্ডারের ওজন ৪০ ভাগ কম। সিএনজি কৃত্রিমভাবে সংকুচিত করা গ্যাস। এই গ্যাসের বহির্মুখী চাপ থাকে ব্যাপক। এ জন্য এই সিএনজি সিলিন্ডার অনেক মোটা স্টিল দিয়ে করা হয়। ফলে এর ওজন বেশি। এদিকে এলপিজির বহির্মুখী চাপ থাকে না। কারণ এটা তরল। এ জন্য এলপিজি সিলিন্ডারে স্টিল থাকে পাতলা। ওজন কম থাকার কারণে গাড়ির সাসপেনশন ভালো থাকে। এলপিজি মাত্র ৭ দশমিক ৫ প্রেশারে স্টোরেজ করা হয়। সেখানে সিএনজি ২০০ থেকে ২৫০ প্রেশারে স্টোরেজ করা হয়। ফলে এলপিজিতে বিস্ম্ফোরণের ঝুঁকি খুবই কম। ফিলিং ক্যাপাসিটি যেখানে ৮০ শতাংশ সেখানে সিএনজির থাকে মাত্র ২৫ শতাংশ। ফলে বারবার গ্যাস নেওয়ার ঝামেলা নেই। একবার ফিলিংয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পথ চলা যায়। এলপিজি অতিরিক্ত হিট বা তাপ উৎপন্ন করে না। ইঞ্জিনের ভেতর কার্বন জমে না। ফলে বায়ুদূষণ কম হয়। প্রতি লিটার এলপিজি মাত্র ৫০ টাকা, যা এক ঘনমিটার সিএনজির থেকে অনেক বেশি মাইলেজ দেয়।

এলপিজিকে ক্লিন বা গ্রিন ফুয়েল বলা হয়। প্রোপেন ও বিউটেনের সংমিশ্রণে উৎপন্ন এ গ্যাসটি পেট্রোল ও অকটেনের বিকল্প হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ইঞ্জিনের জন্যও এই জ্বালানি বেশি কার্যকর এবং নিরাপদ। এক লিটার অকটেনের দাম ঢাকায় ৮৯ টাকা। এক লিটার এলপিজির দাম ৫০ টাকা। এলপিজিতে ৪০ শতাংশের বেশি জ্বালানি খরচ সাশ্রয় হয়। সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মতো এলপিজি স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন দিতে হয় না। এলপি গ্যাস নিতে সময় লাগে ৩-৪ মিনিট। যেখানে সিএনজি নিতে দ্বিগুণ সময়ের দরকার হয়।

অটোগ্যাস সিলিন্ডার :ধরা যাক আপনার গাড়িটি সিএনজিতে রূপান্তর করা। আপনি সিএনজিতে চালাতে পারেন, আবার পেট্রোল, অকটেন বা ডিজেলেও চালাতে পারেন। এখন সিএনজি সিলিন্ডারটা খুলে সেখানে এলপিজি সিলিন্ডার স্থাপন করতে হবে। তেজগাঁওয়ে সাউদার্ন ফিলিং স্টেশন আছে। এখানে অটোগ্যাস বিক্রি হচ্ছে। এখানে আপনার গাড়িটি এলপিজিতে রূপান্তরও করতে পারেন। এলপিজিতে রূপান্তরের পরও আপনার গাড়ি পেট্রোল-অকটেনে চলবে। শুধু তেজগাঁও নয়, ঢাকায় এ রকম ৫৫টি স্টেশনে অটোগ্যাস বিক্রি শুরু হয়েছে।

ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহে রয়েছে সাব্বির এলপিজি (অটোগ্যাস) ফিলিং স্টেশন লিমিটেড অ্যান্ড কনভারশন সেন্টার। এটা জেলা শহরে চরকালীবাড়ী টোলপ্লাজার কাছে। এখানেও গাড়ি এলপিজিতে কনভার্ট বা রূপান্তর করা হচ্ছে। এই ফিলিং স্টেশনের মালিক মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন সমকালকে জানান, তারা সাধারণত প্রাইভেটকারে ৬০ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার প্রতিস্থাপন করে থাকেন। কিটসসহ এটা স্থাপন করতে ৫৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। ৬০ কেজি এলপিজিতে একটি গাড়ি হাইওয়েতে ৬০০ কিলোমিটারের বেশি চলে। সিএনজি সিলিন্ডার স্থাপন খরচ পড়ে ৮০ হাজার টাকা। ফলে এলপিজিতে খরচ কম। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে তার কনভারশন সেন্টার থেকে ৭৫টি গাড়ি এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। শহরে এ রকম আরও দুটি কনভারশন সেন্টার আছে। তারা দুইশ'র বেশি গাড়ি রূপান্তর করেছে। ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই অটোগ্যাস।

দেলওয়ার আরও জানান, অটোগ্যাসের উপকারিতা সম্পর্কে তেমন প্রচার নেই। অনেকে এখনও জানেই না। কিন্তু যারা একবার এর উপকারিতা সম্পর্কে জানছেন তারা তাদের গাড়ি রূপান্তর করছেন। কারণ এটাতে খরচ কম। ইঞ্জিন ভালো থাকে। পরিবেশবান্ধব। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইতালি থেকে পেয়াজু নামে একটি গাড়ি আমদানি করা হচ্ছে। এটাতে অটোগ্যাস সিলিন্ডার স্থাপন করা। ভারতের বাজাজ গাড়িতেও অটোগ্যাস সুবিধা রয়েছে। তিনি আরও জানান, খুব তাড়াতাড়ি দেশের অধিকাংশ গাড়িই অটোগ্যাসে রূপান্তর হয়ে যাবে।

এলপিজির সুবিধা দেশব্যাপী :গ্যাস নেটওয়ার্কের বাইরে দেশের কোথাও সিএনজি বেচাকেনার সুযোগ নেই। অর্থাৎ সেখানে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের সুযোগ থাকতে হবে। বর্তমানে দেশের খুলনা, বরিশাল, যশোরসহ বহু জেলায় গ্যাস পাইপলাইন নেই। ফলে সেখানে সিএনজি স্টেশনও নেই। কিন্তু এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করে সিলিন্ডারজাত করে সারাদেশে বিক্রি করা হয়। এখন খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়াসহ আশপাশ জেলাগুলোতে এই এলপিজির ব্যবহার অনেক বেশি। রান্নার পাশাপাশি এখন পরিবহনেও এই গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। গাড়িতে এলপিজি সিলিন্ডার থাকলে দেশের যে কোনো জেলায় গিয়েও সেখানে রিফুয়েলিংয়ের সুবিধা আছে। প্রশ্ন হলো, অটোগ্যাস স্টেশনে এলপিজি কী অবস্থায় থাকে। ময়মনসিংহ অটোগ্যাস স্টেশনের মালিক দেলোয়ার সমকালকে জানান, তার স্টেশনে একটি গ্যাস চেম্বার আছে। সেখানে এই গ্যাস মজুদ করা হয়। এখান থেকেই গাড়ির সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে দেওয়া হয়। চেম্বারে গ্যাস শেষ হলে আবারও সেটা ভরা হয়। তবে এখানে পাইপলাইনের কোনো ব্যবহার নেই।

এলপিজি ফিলিং স্টেশন :রাজধানীতে বর্তমানে ৫০টির বেশি ফিলিং স্টেশনে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। সারাদেশে দুই শতাধিক স্টেশনে অটোগ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া অনেকে অটোগ্যাস স্টেশনের অনুমতি পেয়েছে এবং কয়েকশ' ফিলিং স্টেশনের আবেদন জমা পড়েছে জ্বালানি বিভাগে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো, ওরিয়ন, সানোয়ারা, ওরিয়েন্টাল, নাভানা, এনার্জিপ্যাক, বাংলা ট্র্যাক, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, সোনার বাংলা গ্যাস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম, ওমেরা পেট্রোলিয়াম, মাহমুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স, কোস্টাল গ্যাস, ডিক্যান এলপিজি, ইউরো পেট্রো প্রডাক্ট, ক্রিস্টাল এনার্জি, বিএনবি এনার্জি, এফ অ্যান্ড এফ সিস্টেম, প্রমিতা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, গায়েন পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি, ইনডেক্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি, প্রজ্ঞা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, জেড অ্যান্ড জেড এনার্জি, জোলস পাওয়ার, বিএম এনার্জি, আম্বিয়া ট্যাঙ্ক টার্মিনাল অ্যান্ড রিফাইনারি প্রমুখ।

রাজধানীতে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি এলপিজি ফিলিং স্টেশন হলো- মতিঝিলের অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁওয়ের সাউদার্ন অটোমোবাইলস লিমিটেড, ক্লিন ফুয়েল ফিলিংস স্টেশন, পল্লবীর ইনট্রাকো সিএনজি ফিলিং স্টেশন, গাবতলীর ট্রেড কনসোর্টিয়াম অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন, মতিঝিলের ডিএস বিজনেস পয়েন্ট, এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন ও মগবাজারের অনুদীপ সিএনজি এলপিজি ফিলিং স্টেশন।

কোথায় রূপান্তর করা যাবে :সাউদার্ন, তমা, ম্যাপললিফ ইন্টারন্যাশনাল, গ্রিন ফুয়েলসহ ২০০টির বেশি ওয়ার্কশপে গাড়ি এলপিজিতে রূপান্তর করা হচ্ছে। বর্তমানে যেসব ওয়ার্কশপে সিএনজিতে রূপান্তর হয় সেখানে এলপিজিতেও রূপান্তর করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগ যা বলছে :জ্বালানি বিভাগ চায় যত দ্রুত সম্ভব পরিবহন খাত এলপিজিতে রূপান্তর হোক। এখানে বেসরকারি খাতেরই মুখ্য ভূমিকা। তবে সরকার সার্বিক সহযোগিতা দেবে। এলপিজি পুরোটাই আমদানি হয় বেসরকারি খাতে। দেশে এমনিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ শেষ হয়ে আসছে। এলএনজি আমদানি করে এখন চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে সরকারকে। ফলে সিএনজির স্থলে এলপিজি পুরোমাত্রায় চালু হলে দেশীয় গ্যাসের ওপর চাপ কমবে। তাছাড়া পাইপলাইনের সমস্যা না থাকায় এলপিজি দ্রুত সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়বে। ফলে জ্বালানি তেল আমদানির ওপরও চাপ কমবে। এতে সরকারের আমদানি ব্যয় সাশ্রয় হবে। এ জন্য যারা এলপিজি বা অটোগ্যাস স্টেশন করতে চায় সরকার তাদের উৎসাহিত করবে।

আরও পড়ুন

×