ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবগত নয় অর্ধেকের বেশি নারী

প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে অবগত নয় অর্ধেকের বেশি নারী
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২১ | ০৮:২৯

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নয় অর্ধেকের বেশি নারী। বিয়ে, সন্তান ধারণ বা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার, কোনো বিষয়ে নিজের মতামতটুকুও দিতে পারেন না অনেক নারী। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পরিবার পরিকল্পনায় নারীর পছন্দ ও অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে জন্ম নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

বাংলাদেশে ৫৯ শতাংশ মেয়ের ১৮ আর ২২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১৫ বছরের আগে। বাল্যবিবাহে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনার মধ্যে এদেশে ১৩ শতাংশ বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাকের গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে যে, করোনাকালে অভিভাবকদের কাজকর্ম না থাকায় ভবিষ্যত দুশ্চিন্তার কারণে ৮৫ শতাংশ, সন্তানের স্কুল খোলার অনিশ্চয়তায় ৭১ শতাংশ এবং করোনা মহামারী দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় অনিরাপত্তাবোধ এবং বাইরে থেকে আসা ছেলে হাতের কাছে পাওয়ায় ৬২ শতাংশ বেড়েছে বাল্যবিবাহ। এছাড়া আরও অন্যান্য সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে, লকডাউনে ঘরের মধ্যে পরিচিত মানুষের মাধ্যমে শিশুরা যৌন হয়রানির শিকার হওয়াও বাল্যবিবাহের কারণ।

শুধু তাই নয়, এখনও ৪৭ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় অদক্ষ হাতে। তাই বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ শিশু জন্ম দিতে গিয়ে ১৭৩ জন মা প্রাণ হারান বলে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এর প্রতিবেদনে বলা হয়। 'বিশ্ব জনসংখ্যা পরিস্থিতি ২০২১' প্রতিবেদনে আরও বলা হয় ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে ৫৯ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে হয়। ১৫-১৯ বছরের মধ্যে তারা মা হতে গিয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ে। তাদের প্রতি ১০০০ জনের মধ্যে ৭৪ জন সন্তান জন্ম দিয়ে থাকে।

ইউনাইটেড ন্যাশন চিলড্রেনস ফান্ড (ইউনিসেফ) সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছে ৯ হাজার ২৩৬ শিশু। আর বিশ্বজুড়ে প্রথম দিনে ভূমিষ্ঠ হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫০৪ শিশু। ২০২১ সালে গোটা বিশ্বে ১৪ কোটি নবজাতক জন্ম নিতে পারে বলেও জানিয়েছে ইউনিসেফ।

এমনই এক পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে 'বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২১'। করোনা মহামারি বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'অধিকার ও পছন্দই মূলকথা: প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার প্রাধান্য পেলে কাঙ্খিত জন্মহারে সমাধান মেলে'।

উএনএফপিএ এর 'আমার শরীর, কিন্তু আমার পছন্দ নয়' শীর্ষক প্রতিবেদন বলছে, ৫৭টি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি নারী যৌনমিলন, জন্মনিয়ন্ত্রণ এমনকি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারে না। 

কোভিড ১৯ বাস্তবতায় সারা বিশ্বে নারীর প্রতি সহিংসতা, স্বাস্থ্য সেবায় বিঘ্ন, অপরিকল্পিত গর্ভধারণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, মাতৃমৃত্যুহার কমানো, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, কিন্তু কোভিড বিশ্বে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধাগ্রস্ত করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মেরী স্টোপস বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন হেড মনজুন নাহার সমকালকে বলেন, বিভিন্ন তথ্যের অভাবে অল্প বয়সে গর্ভধারণ, গর্ভপাত ও অনিরাপদ সন্তান প্রসবের বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। ইতিহাস বলে যে, এই ধরনের অবস্থার পরপরই গর্ভধারণ, বাচ্চা প্রসবের সংখ্যা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও অনিরাপদ গর্ভপাত তুলনামূলক বৃদ্ধি পায়। এবং এটি একটি সাধারণ প্রবণতা। তাই সঙ্গত কারণেই মহামারীর প্রথম থেকেই পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় মেরী স্টোপস বাংলাদেশের কাজ ছিল নিরাপদ মাতৃত্ব, সন্তান ধারণ, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার এবং এই সংক্রান্ত যাবতীয় কর্মসূতি এবং তথ্যসেবাসমূহ নিশ্চিত করা।

অন্যান্যরা মনে করেন, গ্রাহকদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনাসামগ্রী পৌঁছাতে মহামারী বিবেচনায় পদক্ষেপ নেওয়া এবং সেবা ডিজিটাল করা জরুরি।

আরও পড়ুন

×