ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিজয় দিবস উদ্‌যাপন

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই
×

ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১২:০৩ | আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৪:৫১

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিজয়ের ৪৮ বছর উদ্‌যাপন করেছে জাতি। সারা পৃথিবীতে, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে একাত্তরের চেতনা আরও নিবিড়ভাবে ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত সোনার বাংলাকে বিশ্বের মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল করে তোলার অঙ্গীকার করেছেন দেশের মানুষ।

লাখো বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়। তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের সহযোগীদের বিচার এবং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বর্জনের ভেতর দিয়ে অসাম্প্রদায়িক জাতিরাষ্ট্র নির্মাণের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবেই।

বিজয় দিবস ঘিরে সোমবার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধসহ সারাদেশে ছিল আনন্দঘন নানা কর্মসূচি। রাজধানীর তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর এলাকায় সূর্যোদয়ের সময় ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ দিনের কর্মসূচি। সব সরকারি, বেসরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের শীর্ষে উত্তোলিত হয় ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জাতীয় পতাকা। বিভিন্ন যানবাহনেও মানুষকে স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে লাল-সবুজের প্রতীকী পতাকা লাগাতে দেখা গেছে। সূর্যোদয়ের পর থেকেই বিজয়ের উৎসবে মেতে উঠতে শুরু করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ। লাল-সবুজের সাজে সেজেছিল গোটা নগরবাসী।

মহান বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল- সমকাল

এবারের বিজয় দিবস এসেছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। কারণ ২০২০ সালে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং এর পরের বছর ২০২১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবে বাংলাদেশ।

বিভিন্ন দল ও সংগঠনসহ ব্যক্তি উদ্যোগে পাড়ায় পাড়ায় ও অলিগলিতে বেজেছে দেশাত্মবোধক গান এবং বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরণীয় ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ '... এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম...'।

স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের ঢল: ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর এক মিনিট নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায় বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

এরপর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন শেখ হাসিনা। এ সময় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন খসরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ।

ছবি: সমকাল

শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এরপর সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত শ্রদ্ধা জানান।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, রণাঙ্গণের বীর সেনানী, বিভিন্ন সাংবিধানিক পদাধিকারী, উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। এ সময় শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শ্রদ্ধা নিবেদন করেন লাখো জনতা। শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ছেয়ে যায় স্মৃতিসৌধের বেদি।

শ্রদ্ধা জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের বংশধরদের সঙ্গে আপস নেই। তাদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।

বিএনপির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। সেই স্বপ্নকে খুন করা হয়েছে। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন প্রশ্ন তোলেন, রাজাকারের তালিকা এত পরে কেনো প্রকাশ করা হলো?

মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর- সমকাল

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুফল সবার কাছে পৌছে দিতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা ঢাকার ধামরাইয়ের মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম বলেন, 'যে স্বপ্ন নিয়ে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছি, তা এখনো অধরা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল ধনী-গরীবে বৈষম্য থাকবে না। সবাই খেতে, পরতে পারবে। এই সাফল্য এখনও আসেনি।'

রাজধানীর বৈলারপুর থেকে বাবাকে নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে আসে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রুমকি ইসলাম। সমকালের সঙ্গে কথপোকথনে রুমকি বলে, শহীদদের রক্তে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তাদের ভালবাসতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবির আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছরে উন্নয়ন অগ্রগতিতে পাকিস্তানকে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের মর্মবাণী সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ চেতনার বাস্তবায়ন চায় তরুণরা।

বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে ঢাকা জেলা পুলিশ। প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযদ্ধের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় নেতাদের দুর্লভ ছবি প্রদর্শন করা হয়।

মহান বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের- সমকাল

শ্রদ্ধা জানায় ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সিপিবি, বিকল্পধারা, বাসদ, ন্যাপ, জাগপা, গণআজাদী লীগ, সাম্যবাদী দল, তরীকত ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবদল, শ্রমিক দল, ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় জাদুঘর, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, খেলাঘর, কচিকাঁচার মেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি, স্বাচিপ, বিএমএ, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট, মহিলা পরিষদ, প্রেস ইনস্টিটিউট, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, পরমাণু শক্তি কমিশন, সিআরপি, গণবিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিল, রাজউক, অগ্রণী ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক, টিইউসি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় কমিটি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বিসিএস কৃষি অ্যাসোসিয়েশন, সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, গণসংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৮টার দিকে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। এর পর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ: ৪৯তম বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত কুচকাওয়াজে সালাম নেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশন কুচকাওয়াজ পরিচালনা করে।

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- বাসস

রাষ্ট্রপতি নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল আকবর হোসেনকে নিয়ে খোলা জিপে করে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। তিনি বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ এবং সেনা ও নৌবাহিনীর বিমানের এবং র‌্যাবের হেলিকপ্টারে এ্যারোবেটিক ডিসপ্লে, আকাশ থেকে সেনাবাহিনীর ছত্রি সেনার অবতরণও প্রত্যক্ষ করেন।

এয়ার ভাইস মার্শাল এম সাঈদ হোসেনের নেতৃত্বে বিমান বাহিনীর মিগ-২৯ বিমানের মনোমুগ্ধকর ফ্লায়িং পাস্ট এবং বাদ্যযন্ত্রীদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে কুচকাওয়াজ শেষ হয়। সর্বস্তরের মানুষ ২ ঘন্টার এই কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন।

বঙ্গবন্ধু, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় চার নেতা এবং সাত বীর শ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি দিয়ে প্যারেড গ্রাইন্ড সাজানো হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনৈতিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন ভারতীয় যোদ্ধা এবং রুশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দলও কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রীর উপহার: বিজয় দিবসে দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপহার পৌছে দেন। মুক্তিযোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ: বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার গণভবনে ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাকটিকিট ও একটি উদ্বোধনী খাম এবং ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজয় দিবস উলক্ষে বিশেষ দোয়া মোনাজাত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে। সংসদের দক্ষিণ প্লাজাসহ চারটি স্থানে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, বিএসটিআই, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিজয় দিবসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে।

আরও পড়ুন

×