বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেবেন ঢাবির ৮ সাঁতারু
ছবি: সমকাল
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ০৫:১৩ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ | ০৫:১৩
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বঙ্গোপসাগরের বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আট শিক্ষার্থী। টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার সাগরপথ সাঁতরে পাড়ি দেবেন তারা। আগামী ২০ ডিসেম্বর ১৬তম 'ফরচুন বাংলা চ্যানেল সাঁতার- ২০২১' এ অংশ নেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই টিম।
'ষড়জ এডভেঞ্চারে'র আয়োজনে এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহায়তায় আয়োজিত হবে এই প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ৮০ জন সাঁতারু নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই আয়োজন। মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সাতারুরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁতারু ডাকসুর সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেলের নেতৃত্বে আগামী ১৭ ডিসেম্বর সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে রওনা করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাতারু টিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি সাত জন সাঁতারু হলেন– ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তাহের, লেদার ইন্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নাজমুল হোসাইন সুজন, সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাইফুল ইসলাম তপু, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবাদুল ইসলাম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আলী রওনক ইসলাম, আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক। তারা সবাই বাংলা চ্যানেল একবার করে পাড়ি দিয়েছেন। এছাড়া প্রথমবারের মতো বাংলা চ্যানেল সাঁতারে অংশগ্রহণ করছেন তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইসতিয়াক উদ্দিন।
টিমের অধিনায়ক সাইফুল ইসলাম রাসেল বলেন, সমুদ্রের পথটা একটু কঠিন। সেখানে সমুদ্রের স্রোত, ঢেউ, লবণাক্ত পানি, দিক চেনার বিষয় থাকে। সব মিলিয়ে এই পথ পাড়ি দেওয়া চ্যালেঞ্জিং। গতবছর আমরা এই আয়োজনে চ্যাম্পিয়ন হই, আশা করছি এবারও আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো। এই দুঃসাহসিক কাজের মাধ্যমে মানুষকে সাঁতারে প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী এবং সাঁতার না জানার কারণে মৃত্যুহার কমানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এখান থেকেই একসময় হয়তো ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেবে। আমরা সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। যাতে দেশের জন্য কিছু অর্জন করতে পারি। যদিও এটা পাড়ি দেওয়া অনেক কঠিন। কিন্তু আমরা ধীরে ধীরে সেইভাবে প্রস্তুত হচ্ছি। সুইমিংপুল থেকে বের হয়ে আমরা সমুদ্রে সাতার কাটতে অভ্যস্ত হচ্ছি। আশা করা যায়, আমরা দেশের বাইরেও বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারবো।
টিমের আরেক সদস্য সাইফুল ইসলাম তপু বলেন, বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার যে চ্যালেঞ্জ সেটি শুধু সেন্টমার্টিন থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সাতারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের মূল চ্যালেঞ্জটি শুরু হয় অনেক আগে থেকে। বাংলা চ্যানেল সাঁতারের সার্কুলার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা ত্যাগ করা, তীব্র শীতের ভেতর পুকুর পাড়ে যাওয়া, একটু ব্যায়াম করে পুকুরের পানি সাঁতারের জন্য নামা, প্রতিটি স্তরই চ্যালেঞ্জিং।
দুঃসাহসিক এই সাঁতার ২০০৬ সাল থেকে আয়োজিত হয়ে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সাল থেকে এই সাঁতারে অংশগ্রহণ করে আসছে। পানিতে ডুবে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেতে মানুষের সচেতনতা সৃষ্টির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে এবারের আয়োজন।
আয়োজনের জন্য ঢাকায় বিচারপতি শাহবুদ্দিন পার্কের পুকুরে প্রথম এবং দ্বিতীয় বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ২৬ নভেম্বর এবং ৩ ডিসেম্বর। ঢাকার বাইরে রংপুরে বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ৪ ডিসেম্বর। বাছাই পর্বে একজন সাঁতারুকে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে টানা ৪ ঘণ্টা সাঁতার কেটে দেখাতে হয়। এর মাধ্যমে বাছাই করে ৮০ জন সাঁতারুর নাম চুড়ান্ত করেন। এই আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৭২ জন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুইমিং টিমের ৮ জন সাঁতারু আগামী ২০ ডিসেম্বর সমুদ্রের সাঁতার কাটার জন্য দীর্ঘ ৫-৬ মাস কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের প্রস্তুত করেন।
