ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার : ড. মসিউর রহমান

লাভবান হবে বাংলাদেশ

লাভবান হবে বাংলাদেশ
×

আবু কাওসার

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৩৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জন্য উচ্চ প্রবৃদ্ধির দরকার। এ জন্য বড় বাজারে যেতে হবে। রপ্তানি আরও বাড়াতে হবে সেবা খাতে। ট্রানজিটের মাধ্যমে এ সুযোগ রয়েছে। কারণ, ট্রানজিট হচ্ছে এক ধরনের সেবা, যা রপ্তানি বাড়াতে সহায়তা করে। রপ্তানি বাড়লে দেশের অর্থনীতি গতিশীল হবে। ফলে ট্রানজিট ব্যবস্থায় লাভবান হবে বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ভারত ব্যবহার করলে তার বিনিময়ে চার্জ বা ফি পাবে বাংলাদেশ। ফলে যত বেশি বন্দর ব্যবহার হবে, তত বেশি আয় হবে।

সম্প্রতি রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে সমকালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দেশের অর্থনীতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, তিস্তা চুক্তিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। ড. মসিউর রহমান মনে করেন, দেশের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। তার মতে, জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি হলে এটাকে 'সম্মানজনক' বলা যায়। প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, সেইসঙ্গে কমছে দারিদ্র্য। ফলে বাংলাদেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব ছিলেন ড. মসিউর। ১৯৬৫ সালে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। ২০০১ সালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব হিসেবে অবসরে যান। বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।

প্রশ্নোত্তরে ড. মসিউর রহমান বলেন, মিয়ানমার সরকারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া উচিত। তবে যত দিন তারা নিজ দেশে ফেরত না যাবে, তত দিন রাষ্ট্রহীন নাগরিকরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, রোহিঙ্গাদের জন্য একই সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে তিস্তা চুক্তি সই না হওয়ায় দেশের জনগণের মনে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। এ জন্য তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর জানান, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার (সাব-রিজিওনাল কো-অপারেশন) জন্য জোটভুক্ত দেশগুলো পরস্পরের মধ্যে যে ধরনের সহযোগিতার দরকার, তার ঘাটতি রয়েছে। যার যার সুবিধা অনুযায়ী কাজ করছে। এক দেশের অসুবিধা অন্য দেশ অনুভব করে না। সবার সম্মতি নিয়ে কাজ করার মানসিকতা দেখা যাচ্ছে না। এটাকে সাব-রিজিওনাল কো-অপারেশন বলা যায় না। সড়কপথে চার দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল নিয়ে গঠিত হয়েছে বিবিআইএন। এখন পর্যন্ত ওই জোটের কার্যক্রমে দৃশ্যত অগ্রগতি নেই। ড. মসিউর বলেন, এই জোট গঠনের বিষয়টি সুচিন্তার ফসল নয়। কারণ, যে উৎসাহ নিয়ে বিবিআইএন গঠিত হয়েছে, তা এখন আর নেই।

ট্রানজিট :জানুয়ারি থেকে ভারতের সঙ্গে পরীক্ষামূলক ট্রানজিট চালু হচ্ছে। এ থেকে কী ধরনের সুবিধা পাবে বাংলাদেশ? জানতে চাইলে ড. মসিউর বলেন, ট্রানজিটের ফলে বন্দর বেশি ব্যবহার হবে। বেশি ব্যবহার হলে বাংলাদেশের আয় বাড়বে। তার ভাষায়, 'ট্রানজিট হচ্ছে এক্সপোর্ট অব সার্ভিস'। অর্থাৎ এটি এক ধরনের সেবা খাত। দেশের অবকাঠামো দেশের মধ্যে রয়েছে। নিজেদের পাশাপাশি অন্য দেশও ব্যবহার করতে পারবে। অন্য দেশ ব্যবহারের বিনিময়ে টাকা দেবে। ফলে দেশের আয় বাড়বে। সেবা খাতের রপ্তানিতে বাড়তি আয় যোগ হবে। এতে করে সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আয় বাড়বে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বেগবান হবে। লাভবান হবে দেশ। ট্রানজিটের জন্য বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে বলে জানান তিনি।

২০১৬ সালের জুনে আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে দু'দেশের মধ্যে নৌ ট্রানজিট চালু হলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এ বন্দরের প্রতি আগ্রহী নন কেন? তিনি বলেন, আশুগঞ্জ বন্দরে যে পরিমাণ চার্জ ধার্য করা হয়, তা অত্যন্ত বেশি। এত বেশি চার্জ আদায়ের কারণে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এই বন্দর দিয়ে তাদের পণ্য পরিবহন করতে চান না। দেখা গেছে, ভারত যদি এই রুটে না এনে পণ্য শিলিগুড়ি দিয়ে নেয়, তাহলে খরচ কম পড়ে। এসব কারণে আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহারে উৎসাহী নয় ভারত। তবে এটাও ঠিক, এ বন্দরের অবকাঠামো দুর্বলতা আছে। যেভাবে বন্দরের উন্নয়নের কথা ছিল, তা করা হয়নি। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। তবে যতদূর জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে কাজ শুরু হতে এখন আর সমস্যা নেই। এ ছাড়া আখাউড়া থেকে ত্রিপুরা সীমান্ত পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত হওয়ার কথা। এটা সিঙ্গেল লেন এখনও। এটি সংস্কার হওয়া জরুরি। আরও একটি সমস্যা আছে। আশুগঞ্জ বন্দরে কাস্টম অফিস ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক সময় লাগে। সন্ধ্যার পর গাড়ি চলাচল করে না। বন্দরে কাস্টম অফিস চলার সময় আরও বাড়াতে হবে।

আশুগঞ্জ বন্দরে মাশুল নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে তা আরোপ করা হয়নি কেন? জানতে চাইলে মসিউর রহমান বলেন, ট্রানজিটের আওতায় কোনো পণ্য আমদানি হয় না। (ট্রানজিট ইজ নট এন ইমপোর্ট)। আমদানি না হলে তাতে মাশুল বসানো যায় না। স্বীকৃত আন্তর্জাতিক নিয়মের মধ্যে তা পড়ে না। বন্দর ব্যবহারের জন্য চার্জ নেওয়া হয়। আশুগঞ্জ বন্দরে কেন মাশুল আদায় করা হয়, তা আমার জানা নেই। দরকষাকষির (নেগোসিয়েশন) সময় আন্তর্জাতিক নিয়ম উপেক্ষা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মসিউর রহমান বলেন, আশুগঞ্জ বন্দরকে সক্রিয় করতে হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্দরের অবকাঠামো কাজ দ্রুত সেরে ফেলতে হবে। আখাউড়া সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে হবে। ট্রানজিটের ফি নির্ধারণে গঠিত কোর কমিটি প্রতিবেদন দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটির দেওয়া সুপারিশ আন্তর্জাতিক নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের সুপারিশ কাল্পনিক ও অবাস্তব।

ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে পণ্য পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে প্রস্তাব দেওয়া হলেও ভারত অনুমতি দেয়নি কেন? উত্তরে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে নেপাল ও ভুটানের আলাদা চুক্তি আছে। আবার বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চুক্তি আছে। আমাদের ট্রাক সীমান্তে না থেমে নেপাল পর্যন্ত যেতে চায়। এ জন্য নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি লাগবে। চুক্তির জন্য নেপাল ও ভুটানকে অনুরোধ করতে হবে। যতটুকু জানা যায়, নেপাল থেকে অনুরোধ ছিল না। এর মধ্যে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালকে নিয়ে বিবিআইএন হয়েছে। ভুটানের নিম্নকক্ষ চুক্তির বিষয়ে সম্মতি দিলেও উচ্চকক্ষ অনুমতি দেয়নি। ফলে ভুটান সই করতে পারছে না। তিনি আরও জানান, ভুটানকে বাদ দিয়েই হবে। এখানে মানসিক প্রতিবন্ধকতা কাজ করছে। চারজনে মিলে দৌড় শুরু করা হলো। একজন বাদ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলা হচ্ছে, যে বাদ গেছে যাক। অন্যদের সঙ্গে হবে। প্রশ্ন হলো, চারজনকে নিয়ে দৌড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো; এখন কেন একজনকে বাদ দেওয়ার কথা ওঠে? এটাকে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা বলা যায় না। যার যার সুবিধামতো কাজ করছে। একজনের অসুবিধা আরেকজনে অনুভব করে না। সহযোগিতার মানসিকতা দেখা যাচ্ছে না। আমার কাছে মনে হয়, বিবিআইএন বিষয়ে প্রচেষ্টায় ত্রুটি ছিল। ভারত প্রথম থেকে বলে আসছে, বিবিআইএন জোট করতে রাজি আছে তারা। কিন্তু নেপালকে তো অনুরোধ করতে হবে। আমার জানামতে, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে কথা বলা হয়নি। সহযোগিতার যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, সেই কাঠামোকে আঘাত করা হয়েছে। না বুঝে অতি উৎসাহে এটা করা হয়েছে। বিবিআইএন যে উৎসাহ নিয়ে শুরু হয়েছে, এটা সুচিন্তিত ছিল না বলে জানান তিনি।

অর্থনীতি :ড. মসিউর রহমান বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধির পরও আয়বৈষম্য বাড়ছে কেন? সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য হ্রাস করা। এখানে আমরা সফল। সমাজের সবচেয়ে ধনী ও সবচেয়ে গরিব অংশের মধ্যে বৈষম্য বাড়লেও মাঝখানের অংশের আয় বেড়েছে। অর্থনীতিতে পরিবর্তন হচ্ছে। প্রযুক্তিভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ছে। এটা বাড়লে কর্মসংস্থান কমে। তবে যিনি বিনিয়োগ করেন, বেশি লাভবান হন তিনি। প্রশ্ন হচ্ছে, বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়। সরকারের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং দারিদ্র্য কমানো। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া এবং প্রযুক্তিভিত্তিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে যাদের কাছে বেশি মূলধন আছে, তারা বেশি সুবিধা পাবেন। এ ক্ষেত্রে বৈষম্য একটু বাড়তে পারে। কিন্তু যেহেতু দারিদ্র্য কমছে, তার সঙ্গে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। ফলে আমি মনে করি, সঠিক পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।

তিস্তা চুক্তি :মসিউর রহমান বলেন, এই চুক্তি হলে আমাদের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত হবে। এ জন্য চুক্তিটা হওয়া দরকার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। চুক্তি না হওয়ায় দেশের মানুষের মনে একটা নেতিবাচক ধারণা বিরাজ করছে। এ কারণে বিশ্নেষণ করে দেখা দরকার- এ চুক্তি থেকে প্রকৃতপক্ষে আমরা কী পাব। তিনি জানান, তিস্তা চুক্তির জন্য যে খসড়া তৈরি করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ১৫ বছর পর্যন্ত পানিপ্রবাহ থাকবে নিরবচ্ছিন্নভাবে। এ ক্ষেত্রে মাপা হবে গজলডোবা বাঁধে পানি কতটুকু ছাড়া হলো এবং বাংলাদেশ কী পরিমাণ পানি পেল সেটা। এখন পর্যন্ত গজলডোবা থেকে যে পানি ছাড়া হয়, তার অফিশিয়াল তথ্য পাওয়া যায়। এ তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন আছে এবং অভিযোগ আছে, যে পরিমাণ পানি পাওয়ার কথা, সেটা আমরা পাই না। আসলে তিস্তা বাঁধ নির্মাণের আগেই ভারতের সঙ্গে চুক্তি করে নেওয়া উচিত ছিল- আমরা কতটুকু পানি পাব। সেটা করা হয়নি। ২০১০ সাল থেকে বারবার চুক্তি হবে বলা হলেও এখন পর্যন্ত হয়নি। এর মূল কারণ হচ্ছে ভারতের ফেডারেল রাষ্ট্র ব্যবস্থা। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেও অন্য দেশের সঙ্গে চুক্তির জন্য সীমান্তবর্তী রাজ্য সরকারের অনুমোদন লাগে, সে জন্য ভোটাভুটিও করতে হয়। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মতভেদের কারণেই তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না।

কোস্টাল শিপিং চুক্তি :মসিউর রহমান বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি মূলত চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। দুই বন্দরে জট হলে বন্দর ব্যবহারকারীদের খরচ বেশি পড়ে। আমাদের পণ্য ছোট জাহাজে করে বন্দর থেকে প্রথমে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত যায়। সিঙ্গাপুর থেকে মাদার ভেসেলে গন্তব্যে যায়। কোস্টাল শিপিং চুক্তির একটা উদ্দেশ্য ছিল অ্যাক্সেস টু মোর পোর্টস। অর্থাৎ বেশি বন্দর ব্যবহার। ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বন্দর আছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে সমুদ্রপথের দূরত্বও কম। এ রুটের জন্য বড় জাহাজের দরকার পড়ে না। ছোট জাহাজ যেগুলো সিঙ্গাপুরে যায়, ওই রকম জাহাজ সমুদ্রপথে উপকূল হয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে যখন চাপ বেশি পড়বে, তখন ছোট ছোট জাহাজ ভারতের উপকূলীয় বন্দরগুলো যাতে ব্যবহার করতে পারে, সে জন্য দু'দেশের মধ্যে কোস্টাল চুক্তি হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, চুক্তির মধ্যে যে বিষয়টি যুক্ত করা উচিত ছিল- তৃতীয় দেশে যেতে পারা। বিদ্যমান চুক্তিতে তৃতীয় দেশের কথা উল্লেখ নেই। তা না থাকায় ভারতের উপকূলীয় বন্দরগুলো ব্যবহার করতে পারছি না আমরা। এ জন্য কোস্টাল চুক্তি সংশোধন করে এ বিষয়টি যুক্ত করতে হবে।

প্রসঙ্গ রোহিঙ্গা :বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভারত। অনেকেরই প্রত্যাশা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করবে ভারত। কিন্তু করছে না কেন? জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজস্ব বিচার-বিবেচনা রয়েছে। মিয়ানমারের ওপর চীনের বড় প্রভাব রয়েছে। দেশটির সঙ্গে ভারতও শক্ত সম্পর্ক রাখতে চায়। অর্থাৎ মিয়ানমারের ওপর উভয়েই তাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে চায়। ফলে কেউই সুস্পষ্টভাবে বাংলাদেশের পক্ষে আসবে না। আবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধেও যাবে না। চীন বেশি সাহসী। সে জন্য সরাসরি মিয়ানমারের পক্ষে দেশটি। ভারত একটু মোলায়েমভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রত্যাশা, ভারত শক্ত অবস্থান নিলে রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে। এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের ক্ষমতা আছে। তবে ওই পর্যায়ে না। এখানে দেখতে হবে- মিয়ানমারে চীনের স্বার্থ রয়েছে।

আরও পড়ুন

×