ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি

আগুনের ভেতর থেকে চিৎকার করে কাঁদছিল সামিয়া

আগুনের ভেতর থেকে চিৎকার করে কাঁদছিল সামিয়া
×

সামিয়া আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

বকুল আহমেদ

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৫ | ২০:২২ | আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৫ | ২৩:১৮

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে সামিয়া আক্তার। সোমবার দুপুরে যখন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে স্কুল ভবনে পড়েছিল, তখন ভবনটির দোতলায় অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সামিয়াও ছিল। ভবনে আগুন লাগার মিনিট সাতেক আগে বাবা আব্দুর রহিম মেয়েকে নেওয়ার জন্য স্কুল চত্বরে অপেক্ষা করেন।

এ সময় বড় ছেলে সিয়াম তাকে ফোন করে বলেন, আব্বু সামিয়ার স্কুল ছুটি হবে দুইটায়। তুমি বাসায় চলে আসো। এরপর কয়েক মিনিট পর রহিম কলেজ চত্বর থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। মাইলস্টোন চত্বর থেকে বেরও হতে পারেননি তিনি। এ সময় বিকট শব্দ শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখেন একটি বিমান আছড়ে পড়ে মেয়ে সামিয়ার স্কুল ভবনের নিচে পড়েছে। আগুন আর প্রচণ্ড ধোঁয়া। স্কুল ভবনের কাছাকাছি ছুটে প্রচণ্ড তিনি।

চোখের সামনে একমাত্র মেয়েকে পুড়তে দেখেন তিনি। তাকে উদ্ধারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ১০-১২ মিনিট খোঁজার পর হঠাৎ চোখ আটকে যায় ভবনের জানালায়। আগুনের ভেতর থেকে সামিয়াকে চিৎকার করে কাদঁতে দেখেন। এ অবস্থায় জানালার গ্রিল ভেঙে দগ্ধ মেয়েকে উদ্ধার করে আনেন। নিজেও হাতে আঘাত পান এবং আগুনের তাপ লাগে শরীরে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চারতলায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সামনে দাঁড়িয়ে সমকালের কাছে বিমান বিধ্বস্ত এবং মেয়েকে উদ্ধারের ঘটনা বর্ণনা দেন বাবা আব্দুর রহিম।

তিনি জানান, সামিয়ার শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হলেও তার অবস্থা গুরুতর। কারণ মুখ ও শ্বাসনালি পুড়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সোমবার সামিয়াকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

সরজমিনে দেখা যায়, বাবা আব্দুর রহিমসহ স্বজনরা আইসিইউয়ের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। কখন ভেতর থেকে রোগীর প্রয়োজনে ডাক আসে এজন্য অপেক্ষা করছেন।

আব্দুর রহিম বলেন, বিমান বিধ্বস্তের মিনিট সাতেক আগে ওই স্কুল ভবনের সামনেই আমি দাঁড়িয়েছিলাম মেয়েকে নেওয়ার জন্য। আমার বড় ছেলের ফোন পেয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলাম। যদি সেখানে থাকতাম তাহলে হয়ত আমার উপরেই পড়ত বিমানটি। আল্লাহ বাঁচিয়ে দিয়েছেন আমাকে। কিন্তু এখন আমার মেয়ের জীবন সঙ্কটে। ডাক্তার আমাকে জানিয়েছেন, মেয়ের গলা, মুখ, ফুসফুস পুড়ে গেছে। অবস্থা ভালো না।

কথাগুলো বলতেই কেঁদে ওঠেন তিনি। হাতের তালু দিয়ে চোখ মুছে বলেন, আমি সহ্য করতে পারছি না। মেয়ে বেডে চুপচাপ শুয়ে আছে।

রহিম জানান, দুপুর ১টায় সবার ছুটি হয়ে গেলেও সামিয়াসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ক্লাস করানোর জন্য রাখা হয়েছিল। তার বাড়ি দিয়াবাড়ি এলাকায়। আব্দুল্লাহপুরে মাছের আড়ত রয়েছে তার। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সামিয়া দ্বিতীয় সন্তান। তার বড় ছেলে সিয়াম একই স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে।

রহিম বলেন, বিকট শব্দ শোনার পরই পেছনে তাকিয়ে দেখি, চারদিকে আগুন আর ধোঁয়া। আগুনের ভেতর থেকে চিৎকারের আওয়াজ ভেসে আসছে। মেয়ের চিন্তায় পাগলের মত হয়ে যাই। ১০-১২ মিনিট পর আমার মেয়েকে যখন জানালার গ্রিল ভেঙে উদ্ধার করে আনি তখন ভেতরে আরও অনেক ছেলেমেয়েকে দেখেছিলাম। বাঁচার জন্য তারা চিৎকার করে কাঁদছিল। অনেকে আগুনে পুড়ে ফ্লোরে পড়েছিল।

আরও পড়ুন

×