ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

উচ্ছেদ করা ফুটপাতেই আবার বসছে হকার

মিরপুর ১০ নম্বরের আশপাশেও শুরু হয়েছে আনাগোনা

উচ্ছেদ করা ফুটপাতেই  আবার বসছে হকার
×
×

অভিযান চালিয়ে সরানোর পর আবার বসেছে হকার। গতকাল সোমবার নিউমার্কেট এলাকায় সমকাল

অমিতোষ পাল

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর ফুটপাত উচ্ছেদ নিয়ে শুরু হয়েছে ‘ইঁদুর বিড়াল খেলা’। সিটি করপোরেশন এক এলাকায় উচ্ছেদ চালিয়ে ফুটপাত খালি করে, আবার অন্য এলাকায় বসে পড়ে হকাররা। গত ২৩ মে অভিযান চালিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে নীলক্ষেত এলাকার ফুটপাত হকারমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সম্প্রতি সড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটপাতের সঙ্গে রাস্তা দখল করে হকাররা পসরা সাজিয়েছে। 

একই অবস্থা গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকায়। সেখানে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই এলাকায় অভিযান চালিয়েছিল ডিএসসিসি। উচ্ছেদের কয়েক দিন পর আবারও হকার বসে পড়ায় এই উচ্ছেদের অর্জন নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন ছিল। ডিএসসিসির প্রশাসক হিসেবে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনার উদ্যোগ নেন। এ জন্য নীতিমালাও প্রণীত হয়েছে। মাঝেমাঝে অভিযানও চলছে। এমনকি নিজেও অভিযানে উপস্থিত থাকছেন। তারপরও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। 

নীতিমালা প্রণয়নের পরও এভাবে রাস্তা-ফুটপাত দখল করে কেন হকার বসছে, সে প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহসভাপতি শেখ মেহেদী আহসান সমকালকে বলেন, হকার উচ্ছেদের নামে আমরা নাটকের মঞ্চায়ন দেখেছি। বর্তমানেও তাই চলছে। ফুটপাত-রাস্তা হকারমুক্ত করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিরা বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন। কারণ তাদের কথা মানুষ শোনে। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় জনপ্রতিনিধি না থাকায় হকার সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। 

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, সরকার যদি সত্যিকারে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে চায়, তাহলে বিকেন্দ্রীকরণের কোনো বিকল্প নেই। 
গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকাকে হকারমুক্ত করতে ব্যাপক পরিসরে অভিযান চালায় ডিএনসিসি। সাংবাদিকসহ কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকে ওই এলাকা হকারমুক্ত।  কতদিন হকারমুক্ত থাকবে– এ প্রশ্নের উত্তরে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, হকারদের আর নির্ধারিত জায়গার বাইরে বসতে দেওয়া যাবে না। এ যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি। 
সম্প্রতি দেখা যায়, অভিযানের পর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে পল্লবী, ২ নম্বর, ১৪ নম্বর ও শেওড়াপাড়া পর্যন্ত সড়ক হকারমুক্ত হয়েছিল। এখন ১০ নম্বর গোলচত্বরের অদূরে এক-দুজন করে ফুটপাতে আবার হকার বসতে শুরু করেছে। 

সরজমিনে দেখা গেছে, বর্তমান প্রশাসকদের সময়ে গুলিস্তান, পল্টন, যাত্রাবাড়ী, নিউমার্কেট, লালবাগ, ফার্মগেট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা-ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হলেও মিরপুর ছাড়া সর্বত্রই হকার বসে আছে। অভিযান শেষ হওয়ার সপ্তাহ পেরোনোর আগেই হকাররা আবার বসতে শুরু করেন। 
কিছুদিন আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন চার হাজার হকারের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। কিন্তু রাজধানীতে হকারের সংখ্যা এখন প্রায় ছয় লাখ। তাহলে এ হকারদের বিষয়ে করণীয় কি সে প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকান্দার হায়াৎ বলেন, আগে এক দলের নেতাকর্মী ও পুলিশ হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলত। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এলোমেলোভাবে ভাগবাটোয়ারা হয়েছে। এবার উচ্ছেদের পর নতুন বন্দোবস্ত চালুর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যতদিন হকারদের জন্য আইন না হবে, ততদিন সুষ্ঠু সমাধান হবে না।

আরও পড়ুন

×