দেশে নিরাপত্তায় তেমন কোনো ঘাটতি নেই: বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৯:৫০
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, দেশে নিরাপত্তায় তেমন কোনো ঘাটতি নেই। বিনিয়োগের পরিবেশও স্বাভাবিক রয়েছে।
আজ সোমবার পূর্বাচলের বাংলাদেশ চায়না ফ্রেডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারে ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা’– এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিট গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এবারই প্রথমবার গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপোর আয়োজন করা হচ্ছে। এ আয়োজনে আরও বেশি সংখ্যক বিদেশি ক্রেতাদের অংশগ্রহণ আশা করা হয়েছিল। তবে নানা কারণ দেখিয়ে কিছু সংখ্যক ক্রেতা দেশের আসতে চাননি। আবার অনেকেই বলেছেন নির্বাচনের পরে আসবেন।
এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি আছে কিনা বাণিজ্য উপদেষ্টার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নিরাপত্তার তেমন কোনো ঘাটতি নেই। বিনিয়োগ পরিবেশও স্বাভাবিক রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও এ বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশ সম্পর্কে প্রায়ই ভুল তথ্য ছড়ানো হয়, যা অপ্রয়োজনীয় ভীতি তৈরি করে। কিন্তু আমাদের দেশে এমন বড় কোনো নিরাপত্তা ঘাটতি নেই যা মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। তিনি জানান, বাংলাদেশ সফরকারী বিদেশি ক্রেতারা তাদের নিজ নিজ দেশের জারি করা নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করেন।
গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এ এক্সপো দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ, নির্মাতা, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী এবং উদ্ভাবকদের আইডিয়া শেয়ার, অর্থপূর্ণ আলোচনা, সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের দ্বার উন্মুক্ত করবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ শিগগিরি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ হতে চলেছে। এই মাইলফলক আমাদের অগ্রগতি তুলে ধরেছে, কিন্তু এটি নতুন চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে। আমরা বর্তমানে যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা এবং ছাড় সুবিধা ভোগ করছি তা ধীরে ধীরে হারাব। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব বাণিজ্যে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি টেকসই করতে আমাদের পণ্যকে বৈচিত্র্যময় করা, সরবরাহ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই রূপান্তর সফলভাবে মোকাবিলার জন্য, আমাদের পণ্য এবং রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যকরণ, প্রতিযোগিতামূলকতা উন্নত করা এবং দূরদর্শী বাণিজ্য নীতি গ্রহণে দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে, গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো আয়োজন কেবল সময়োপযোগীই নয়- এটি আমাদের ভবিষ্যতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত ড. লুতফে সিদ্দিকী। এতে আরও বক্তব্য দেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খান প্রমুখ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক থেকে তিনি ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করাই এই প্রদর্শনীর লক্ষ্য। এক্সপোতে ১১টি বিদেশি কোম্পানিসহ মোট ১৬৫টি স্টল অংশ নিচ্ছে।
এবারের সোর্সিং এক্সপোতে বাংলাদেশের আটটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতের পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। খাতগুলো হচ্ছে- তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষিজাত পণ্য, প্লাস্টিক ও কিচেনওয়্যার, হোম ডেকর ও ফার্নিচার, ওষুধ ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি)। প্রদর্শনীতে এসব খাতের শতাধিক প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি, পাইকারি ব্যবসায়ী ও সরবরাহ খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
এক্সপোতে আফগানিস্তান, চীন, ইরান, জাপান, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও সোর্সিং প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। তারা পণ্য ও সেবা নিয়ে সভা (বিটুবি), পণ্য কেনাবেচা ও চুক্তি করতে পারবে। সোর্সিং এক্সপোতে বিষয়ভিত্তিক ১০টি বিশেষ সেমিনার, অনলাইন ও অফলাইন বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) বৈঠক, দেড় শতাধিক স্টল, নেটওয়ার্কিং ও ফ্যাশন শো-সহ নানা আয়োজন থাকছে।
- বিষয় :
- বাণিজ্য উপদেষ্টা
- শেখ বশিরউদ্দীন
