তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ২.২২%
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে স্থবিরতার প্রভাব পড়েছে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি)। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ সময়ে স্থির মূল্যে প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ২ দশমিক ২২ শতাংশ। এ নিয়ে টানা দুই প্রান্তিকে কমলো জিডিপি প্রবৃদ্ধি।
গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে তা কমে হয় ৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে তা আরও কমলো।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে।
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে বিবিএস। তাতে দেখা যায়, সাময়িক হিসাবে গত অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।
চার প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব প্রকাশ করার পর পরবর্তীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করবে বিবিএস। প্রতি অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব ও চূড়ান্ত হিসাবের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকে। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে এ ধরনের প্রান্তিকভিত্তিক জিডিপির প্রাক্কলনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে বিবিএস।
বিবিএসের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতির প্রধান তিন খাতেই প্রবৃদ্ধির হার কমে গেছে। এর মধ্যে শিল্প খাতের অবস্থা ছিল সবচেয়ে খারাপ। শিল্প খাতে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ খাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির নজির দেখা যায়নি। শিল্প খাতে গত অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৮২ ও ১ দশমিক ২৭ শতাংশ।
গত অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার কমে হয়েছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে যা ছিল যথাক্রমে ২ দশমিক ১১ ও ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে যা ছিল ৪ দশমিক ৫১ ও ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
উল্লেখ্য, একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত সব চূড়ান্ত পণ্য ও সেবার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বলা হয়। কোনো বছর তার আগের বছরের তুলনায় জিডিপি কত শতাংশ বাড়ে বা কমে সেটি বছরভিত্তিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি। একইভাবে কোনো প্রান্তিকে আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় জিডিপি কত শতাংশ বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়, তার হিসাবকে প্রান্তিকভিত্তিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি বলা হয়। আগের প্রান্তিকের তুলনায় উৎপাদন কমে গেলে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়।
বিবিএসের প্রতিবেদন অনুসারে, গত জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে স্থির মূল্যে জিডিপি হয়েছে ৯ লাখ আট হাজার ৫৪১ টাকা। এর আগে দ্বিতীয় প্রান্তিকে এর পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৪০৩ কোটি টাকা। আর প্রথম প্রান্তিকে ছিল আট লাখ ৫৯ হাজার ১০ কোটি টাকা।
- বিষয় :
- জিডিপি