বাংলাদেশে ২শ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়ন করতে পারবে ইউকেইএফ
গতকাল বৃহস্পতিবার আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের প্রতিনিধিরা ফটাে রিলিজ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাজ্যের রপ্তানি ঋণ সংস্থা ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স (ইউকেইএফ) বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। যেসব প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা ব্যবহার করা হবে, সেসব প্রকল্পের যোগ্য প্রতিষ্ঠান ইউকেইএফের অর্থায়ন সুবিধা পেতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছে ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের একটি প্রতিনিধি দল। তারা গতকাল বৃহস্পতিবার আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্তরাজ্যের অর্থায়ন ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। আইসিসি বাংলাদেশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আলোচনার বিষয়বস্তু জানিয়েছে।
আইসিসি বাংলাদেশ জানায়, বাংলাদেশে অর্থায়নের নতুন সুযোগ খুঁজে বের করতে ইউকেইএফ বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। যুক্তরাজ্যের দক্ষতা, প্রযুক্তি ও অর্থায়ন বাংলাদেশের উন্নয়নে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা এসব আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য ইউকেইএফের বর্তমানে ১০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে। এই অর্থায়ন পরিবহন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, বিমানবন্দর, উৎপাদন শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতের প্রকল্পে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কেও কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবকাঠামো চাহিদা ও সম্প্রসারিত বেসরকারি খাত যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনি বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবহন ও লজিস্টিকস, বিমানবন্দর ও বিমান চলাচল, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো খাতে ইউকেইএফের অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের দক্ষতা ও অর্থায়ন কাজে লাগানো যায়– এমন বাস্তবসম্মত ও সম্ভাবনাময় প্রকল্প চিহ্নিত করতে আইসিসি বাংলাদেশ ইউকেইএফ, যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড এবং ব্রিটিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকে ইউকেইএফ প্রতিনিধি দল তাদের বিভিন্ন অর্থায়ন সুবিধা সম্পর্কে আইসিসি বাংলাদেশের সদস্যদের অবহিত করে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা যুক্ত রয়েছে– এমন উন্নয়ন ও বেসরকারি খাতের প্রকল্পে কীভাবে ইউকেইএফের অর্থায়ন পাওয়া যেতে পারে, তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এই অর্থায়ন কীভাবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাজ্যের ট্রেড কাউন্সেলর মার্ক বিরেল বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে আমরা সরকার ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি তাদের মতামত জানতে পারছি। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কোম্পানি, দক্ষতা ও অর্থায়ন বাংলাদেশের উদ্ভাবন, প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে, সেই সুযোগগুলো খুঁজে দেখা হচ্ছে।’
ইউকে এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স গ্যারান্টি, ঋণ ও বীমাসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা দিয়ে থাকে। যুক্তরাজ্যের পণ্য ও সেবা যুক্ত রয়েছে– এমন প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক শর্তে অর্থায়ন পেতে এসব সুবিধা সহায়তা করে। ইউকেইএফ ৬০টির বেশি স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়ন সুবিধা দিতে পারে।
সফররত যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি দলে রয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাজ্যের ট্রেড কাউন্সেলর মার্ক বিরেল ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের জন্য ইউকেইএফের কান্ট্রি হেড সন্দ্বীপ কুদতারকার এবং দক্ষিণ এশিয়ার হেড অব ট্রেড পলিসি রোহিনী আগরওয়াল। তাদের ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফরে থাকার কথা। সফরকালে তারা সরকারের প্রতিনিধি, ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থায়নের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনা করছে।
- বিষয় :
- অর্থনীতি