ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সময়সূচি নিয়ে অভিযোগ

গোলাপি বাসে স্বস্তি, তবে অনিশ্চিত অপেক্ষা

অন্য বাসে ঠাসাঠাসি, পিংক বাস ফাঁকা

গোলাপি বাসে স্বস্তি, তবে অনিশ্চিত অপেক্ষা
×

 দ্রোহী তারা

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

বৃহস্পতিবারের পড়ন্ত বিকেল। রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে তখন অফিসফেরত মানুষের ঢল। একের পর এক বাস এসে থামছে, দরজায় ঝুলছে যাত্রী। দাঁড়ানোরও জো নেই। সেই ভিড়ের মধ্যেই ৪০ মিনিট অপেক্ষার পর চোখ আটকে গেল একটি গোলাপি বাসে। ৬০ আসনের বাসটিতে তখন যাত্রী মাত্র দুজন।

১৭ টাকার টিকিট কেটে বাসে উঠতেই বোঝা গেল, ঢাকার চেনা গণপরিবহনের সঙ্গে এ বাসের পরিবেশ একেবারেই আলাদা। ভেতরে নেই ঠাসাঠাসি, নেই দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীর চাপ। কর্মব্যস্ত বৃহস্পতিবারের অফিসফেরত যাত্রায় আশপাশের বাসগুলো যখন প্রায় পূর্ণ, তখন নারী যাত্রীদের জন্য চালু হওয়া বাসটি প্রায় সম্পূর্ণই ফাঁকা।
মতিঝিল থেকে যাত্রা শুরুর পর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে যাত্রী। এক ঘণ্টা যাত্রার পর কারওয়ান বাজারে পৌঁছাতেই বাসে যাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১২ জনে। যাত্রী পাওয়ার সংকট যেমন চোখে পড়ল, তেমনি দেখা গেল– যারা উঠছেন, তাদের কাছে এই সেবার প্রয়োজনীয়তাও কম নয়। 

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের লক্ষ্যেই বিআরটিসি পিংক বাস চালু করেছে গত ১৮ আগস্ট। বাসটিতে ছিলেন চালক, টিকিট চেকার, হেল্পার এবং একজন পুরুষ সহযোগী। নারী পরিচালিত বাসে পুরুষ সহযোগীর উপস্থিতিই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে।
বাসের চালকের সহযোগী ঊর্মি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের সহায়তার জন্য পুরুষ সহযোগীরা থাকছেন। অনেক চালক এখনও সব রুট ভালোভাবে চেনেন না। তাদের সহযোগিতা দিতেই আপাতত পুরুষ সহযোগী রাখা হয়েছে।

বাসযাত্রী নুরী ইসলাম বলেন, অন্য বাসে উঠলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। পাশে কে দাঁড়াল, কী হচ্ছে– সবকিছু নিয়ে এক ধরনের অস্বস্তি থাকে। কিন্তু গোলাপি বাসে সেই চাপ নেই। তাঁর ভাষায়, বাসে উঠলে অনেকটা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে ঘুমাতেই বাসায় ফেরা যায়।
এই বক্তব্যের মধ্যেই আলাদা বাসের প্রয়োজনীয়তার একটি বড় কারণ ধরা পড়ে। গণপরিবহনে নারীর যাত্রা শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেওয়ার বিষয় নয়। সেখানে নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত পরিসর ও মানসিক স্বস্তিও গুরুত্বপূর্ণ।

টিকিট যাচাইকারী নীলিমার অভিজ্ঞতাও বলছে, বাসের ভেতরে বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে সড়কে পরিস্থিতি ভিন্ন। কোনো সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লাগলেও সেটিকে বড় ঘটনা হিসেবে দেখে অনেকেই তর্কে জড়িয়ে পড়ছেন। তার পর্যবেক্ষণ, নারী পরিচালিত পরিবহনকে অনেকেই এখনও স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন সামনে আসছে তা হলো বাসের জন্য অপেক্ষা। সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে একটি বাস চলে গেলে পরের বাসে ওঠার সুযোগ থাকে। কিন্তু পিংক বাসের ক্ষেত্রে সেই বিকল্প সীমিত। ফলে যাত্রীকে আগে থেকেই অনিশ্চিত অপেক্ষার হিসাব করতে হয়। যাত্রীদের মতে, প্রতিটি রুটে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া প্রয়োজন।
গৃহিণী আয়াতুল করিম জানান, রুট সম্পর্কে জানলেও নির্দিষ্ট সময়ে বাস পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। অনেক সময় রুটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেও বাসের দেখা মেলে না। ফলে এই বাস পাওয়া যাবে– এই নিশ্চয়তা নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। 
এ অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। পিংক বাস চালুর পরপরই বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের অভিযোগ ছিল, বাসের স্টপেজ ও চলাচলের সময় সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তারা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছেন।
পিংক বাসের রুটগুলো নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে একাধিক রুট ও স্টপেজের তালিকা রয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু রুটের তালিকা প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর সময়সূচি ও সেটি মেনে চলার নিশ্চয়তা। 

আরও পড়ুন

×