মারধরে গর্ভপাত
তিন দফা অভিযোগেও মামলা নেয়নি পুলিশ
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
অন্তঃসত্ত্বা নারীকে মারধর করে গর্ভপাত ঘটানো, বসতঘরে আগুন দেওয়া, টাকা লুট এবং স্বামীকে জিম্মি করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। থানায় তিন দফা লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না করায় প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ‘এলাকাবাসীর ব্যানারে’ চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের নছর উদ্দীনের মোড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তব্য দেন মো. দুলাল মিয়া, মো. মাছুদ্দীন ও মো. নয়নজি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগের পরও পুলিশ মামলা নেয়নি। মূল ঘটনার পাশাপাশি এরও তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁরা দ্রুত লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও পুলিশি সহায়তা পাইনি। পরে চিলমারী থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৯ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে তিন দফায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বলেন, ‘আগেও আমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। উল্টো ওসি সাহেব থানায় ডেকে নিয়ে বিচার করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। থানায় যাওয়ার পর বাড়ি খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. শামিম মিয়া। তিনি বলেন, ‘শুনেছি আর্থিক লেনদেন নিয়ে অভিযোগকারীদের সঙ্গে এক প্রতিবেশীর মারামারি হয়েছিল। এর জের ধরে ওই রাতে আবারও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের কারও সম্পৃক্ততা নেই।’
একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিলমারী থানার ওসি নয়ন কুমার। তাঁর ভাষ্য, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দেওয়া হয়নি। বাড়ি খালি করে দেওয়ার নির্দেশের বিষয়টিও সত্য নয়। তাঁরা অভিযোগ নিয়ে থানায় এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। জেনে আপনাকে জানাব।’
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৬ আগস্ট মধ্যরাতে মুদাফৎথানা বেলেরভিটার হরিণেরবন্দ এলাকায় সাইদুর রহমান, শামীম মিয়া ও হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁকে বিবস্ত্র করে ভিডিও করেন। সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যান। এ ছাড়া স্বামীকে জিম্মি করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। তাঁরা ওই নারীকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তাঁর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানান তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।
- বিষয় :
- গর্ভপাত