‘আওয়ামী লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না’
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
‘আওয়ামী লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। তাঁর ব্যবসার লাইসেন্স থাকুক আর না থাকুক।’ গাজীপুরে এক ব্যবসায়ীকে ফোনে এমন হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ফোনালাপে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে ইন্টারনেটের কেবল কেটে দেওয়ার হুমকিরও অভিযোগ উঠেছে কৃষক দল কর্মী তরিকুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেনের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে তাঁর বৈধ ইন্টারনেট ব্যবসায় নানা ধরনের বাধা দিয়ে আসছিলেন তরিকুলসহ কয়েকজন। এক পর্যায়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে এলাকায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলেও তাঁর কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া হয়। পরে হুমকির পরদিনই বিভিন্ন স্থানে তাঁর প্রতিষ্ঠানের অপটিক্যাল কেবল কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বাসন থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন সাজ্জাদ। পুলিশ বলছে, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাজ্জাদ হোসেন ‘অ্যাডভান্স নেটওয়ার্ক সিস্টেম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। বাসন থানা এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্স রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন তাঁর ব্যবসায় বিভিন্নভাবে বাধা দিয়ে আসছিলেন। পরে তারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না বলে কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩১ আগস্ট রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তরিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে সাজ্জাদ হোসেনকে কল করে আবারও চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে বিদ্যুতের খুঁটিতে টানা তাঁর প্রতিষ্ঠানের সব ইন্টারনেট কেবল কেটে দেওয়ার হুমকি দেন।
ভাইরাল হওয়া ওই ফোনালাপের একটি অংশে তরিকুলকে বলতে শোনা যায়, ‘তারেক রহমানের খাম্বায় (বৈদ্যুতিক খুঁটি) আওয়ামী লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। তাঁর ব্যবসার লাইসেন্স থাকুক আর না থাকুক। আমরা আওয়ামী লীগ আমলে ব্যবসা করতে পারি নাই, এখন আপনারাও করতে পারবেন না।’
সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আমি বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছি। এর পরও চাঁদা দাবি করে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চাঁদা না দেওয়ার পর আমার প্রতিষ্ঠানের কেবল কেটে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আমি ও আমার কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।
অভিযুক্ত তরিকুল বলেন, ‘তারা (ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন) আওয়ামী লীগ করেন। আওয়ামী লীগ আমলে কি আমরা ব্যবসা করতে
পেরেছি? পারিনি। কিন্তু তারা ঠিকই ব্যবসা করছে। আমরা কৃষক দল করি, আমার বাবাও কৃষক দল করেন। আওয়ামী লীগ আমলে আমরা জেল খেটেছি, রিমান্ডে ছিলাম। সেই হিসেবে তো আমরা কিছুই করছি না।
বাসন থানার এসআই মো. শিবলু মিয়া বলেন, ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়া এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা ইন্টারনেট কেবল কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ব্যবসা