টাঙ্গাইলের সখীপুর সড়কে পড়ে ছিল মন্ত্রীর স্বজনের লাশ
পরিবারের দাবি হত্যা
সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার একটি সড়ক থেকে আওয়াল শফিক (৪০) নামে এক স্বাস্থ্য সহকারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার দুপুরে সখীপুর-বাসাইল সড়কের নলুয়া বাজারের অদূরে সড়কের ওপর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আওয়ালের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছে পরিবারের সদস্যরা।
নিহত আওয়াল শফিক উপজেলার বোয়ালী গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেনের ছেলে এবং যাদবপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের ফুফাতো বোনের ছেলে।
মরদেহ উদ্ধারের পর গলায় বড় আকারের কাটা দাগ এবং তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি অক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে নিহত আওয়াল শফির স্ত্রী তানিয়া আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার সকালে যাদবপুর ইউনিয়নের বেড়বাড়ী সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কেন্দ্রে যান আওয়াল শফিক। সেখানে দায়িত্ব পালনের পর দুপুরে নিজ মোটরসাইকেলে নলুয়া বাজারে ফিরছিলেন। দুপুর পৌনে ১টার দিকে স্থানীয় লোকজন নলুয়া বাজারের অদূরে সড়কের ওপর তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে শনাক্ত করেন এবং পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি দুর্ঘটনাস্থল ও নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা প্রকাশ করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা মন্ত্রীর কাছে বিষয়টিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচার দাবি করেন। এরপর মন্ত্রী রাতেই সখীপুর থানায় এসে নিহতের মরদেহ ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দেখেন। সেখানে তিনি টাঙ্গাইলের সহকারী পুলিশ সুপার (সখীপুর সার্কেল) মোহাম্মদ আল মামুন, থানার ওসি মুরাদ হোসেন ও ডিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের নির্দেশনা দেন।
- বিষয় :
- হত্যা