ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দরিদ্র গ্রাহকের ১৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও পিডিবিএফ কর্মী

দরিদ্র গ্রাহকের ১৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও পিডিবিএফ কর্মী
×

শাহ জাহান আলী

 দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেবিদ্বারে পল্লী দারিদ্র্যবিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) চুক্তিভিত্তিক ঋণদান কর্মী শাহ জাহান আলীর বিরুদ্ধে গ্রাহকের ১৭ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শাহ জাহান আলী ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার শড়াতলা স্কুলপাড়ার বাসিন্দা লিয়াকত আলীর ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দেবিদ্বার পৌরসভার মোল্লাবাড়ি এলাকার একটি ভবনের পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন। টাকা ফেরত পেতে দেবিদ্বার উপজেলা পিডিবিএফ কার্যালয়ে প্রতিদিন ধরনা দিচ্ছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে পিডিবিএফের কার্যালয়ে আসেন মাশিকাড়া গ্রামের মাসুম, ভূষণা গ্রামের সাক্কুম মিয়াসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী। কার্যালয়ে এসে তারা জানতে পারেন, শাহ জাহান আলীর সঙ্গে অফিসের কারও যোগাযোগ নেই। পরে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা জানান, শাহ জাহান আলী তাদের কাছ থেকে নিয়মিত সঞ্চয় ও ঋণের কিস্তির টাকা আদায় করতেন। দীর্ঘদিন তিনি এই কাজ করছিলেন। তিন মাস ধরে শাহ জাহান আলীর ফোন নম্বর বন্ধ। এরপর অফিসে যোগাযোগ করেন তারা। অফিসের লোকজন বলছে শাহ জাহান আলী নাকি চুক্তিভিত্তিক ঋণদান মাঠকর্মী ছিলেন, তাদের অফিসের নিয়োগ করা ব্যক্তি না। তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে কিস্তির টাকা নিয়েছে, কিন্তু অফিসে জমা দেয়নি। পরে হিসাব মেলাতে গিয়ে অফিস জানতে পারে, তাদের জমা দেওয়া বিপুল পরিমাণ টাকার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
ভূষণা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কাশেম মিয়া বলেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই। এখানে অধিকাংশ গ্রাহক শ্রমিক, তারা অল্প অল্প করে টাকা জমা রাখতেন। শাহ জাহান আলী মাঠকর্মী হিসেবে আমাদের সবার টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। আমরা পাওনা টাকার জন্য অফিসে বারবার যোগাযোগ করছি, কিন্তু কেউ সমাধান দিতে পারছে না।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহ জাহান আলীর মোল্লাবাড়ির ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, শাহ জাহান আলী পরিবার নিয়ে যে কক্ষে থাকতেন, তা তালাবদ্ধ। বাড়ির মালিক মোসা. রাশেদা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, তিন মাস ধরে শাহ জাহান আলী পরিবারসহ নিখোঁজ। তাঁর কাছে তিন মাসের ভাড়া পাওনা। তাঁর ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সন্ধান চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

পিডিবিএফের দেবিদ্বার উপজেলা কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শাহ জাহান আলী চুক্তিভিত্তিক ঋণদান মাঠকর্মী হিসেবে এই অফিসে কাজ করতেন। তারা আট মাস আগে নিয়োগ পেয়েছেন। এই আট মাসে তারা দেখেছেন শাহ জাহান আলী অফিসের নানা কাজ করতেন বিশ্বস্ততার সঙ্গে। তিনি এমন কাজ করবেন, কখনোই ভাবতে পারেননি তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহ জাহান আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের (পিডিবিএফ) কুমিল্লা জেলার সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, শাহ জাহান আলী গ্রাহকের প্রায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা। তবে তাঁর বাবা জেলা অফিসের তাদের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এখন তাঁর বাবা যদি এগুলোর সুরাহা করেন তাহলে তো আর কথা নেই। তবে প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনও মামলা করা হয়নি।

আরও পড়ুন

×