ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপির দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, থানায় মধ্যরাতে অবস্থান

বিএনপির দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, থানায় মধ্যরাতে অবস্থান
×

বুধবার মধ্যরাতে থানায় অবস্থান নেয় লৌহজং বিএনপির একটি পক্ষ সমকাল

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার পর একপক্ষ রাতের বেলায় থানায় অবস্থান নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। অন্যপক্ষ অবৈধ ড্রেজারের পাইপ অপসারণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করে।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ড্রেজার ব্যবসা, জমি ও যানবাহন থেকে আদায় করা চাঁদার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় লৌহজংয়ের মাওয়ায় অবৈধ ড্রেজার ব্যবসার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও স্থানীয় বাসিন্দা পাভেল মোল্লা। মিছিল শুরুর আগে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সদস্য সচিব আব্দুস সালাম মোল্লার সমর্থকদের সঙ্গে পাভেল মোল্লার সমর্থকদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর রাত ১টার দিকে সালাম মোল্লার সমর্থকরা পদ্মা সেতু উত্তর থানায় গিয়ে অবস্থান নেন। তাদের অভিযোগ, বিক্ষোভ মিছিলে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। তারা অস্ত্র 
উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ মেদিনীমণ্ডল এলাকার বাসিন্দা মাসুদা বেগম লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, দক্ষিণ মেদিনীমণ্ডল এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজারের পাইপ বসানোর কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২৫টি পরিবার দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতার মধ্যে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, ড্রেজারের কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে গেলে সংশ্লিষ্টরা এলাকাবাসীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। দ্রুত ড্রেজারের পাইপ অপসারণ এবং এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় আবেদনে।

এই আবেদনকে ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছে সালাম মোল্লার পক্ষ। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পাভেল মোল্লা ও তাঁর অনুসারীরা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। সালাম মোল্লার সমর্থকদের দাবি, হলদিয়ার মৌছামান্দা এলাকা থেকে খানবাড়ি এলাকার একটি জমি ভুয়া ওয়ারিশ সাজিয়ে রেজিস্ট্রি করে বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ টাকা বিভিন্ন জায়গায় ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে এবং পাভেল মোল্লার মাধ্যমে ওই টাকা বণ্টন করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
তাদের ভাষ্য, এ বিষয়ে গত শুক্রবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দলীয় নেতাদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে এক কোটি ৬০ লাখ টাকার হিসাব জানতে চাওয়া হলে পাভেল মোল্লা কোনো সন্তোষজনক জবাব না দিয়ে বৈঠক থেকে চলে যান। এর পর ওই অর্থের হিসাব এড়াতেই অবৈধ ড্রেজারের অভিযোগ সামনে এনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা হচ্ছে বলে দাবি সালাম 
মোল্লার পক্ষের।

অভিযোগের বিষয়ে মেদিনীমণ্ডলের স্থানীয় ভূমির মালিক তারা মাতবর বলেন, কারও জায়গায় ড্রেজারের পানি ফেলা হয়নি। এটি ড্রেজারের কোনো সমস্যা নয়। মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নের কয়েকটি ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন স্থায়ী জলাবদ্ধতা রয়েছে। মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের নিচে কয়েকটি কালভার্ট রয়েছে। একটি কালভার্ট সেখানকার একটি রেস্তোরাঁ দখল করে রেখেছে। সরকারি খাল ও কালভার্টগুলো দখলমুক্ত করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এক কোটি ৬০ লাখ টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ থেকে দৃষ্টি সরাতেই ড্রেজারকে ইস্যু করা হচ্ছে।
পাভেল মোল্লা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ড্রেজার ব্যবসা ও চাঁদাবাজি ধামাচাপা দিতেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি কোনো চাঁদাবাজি বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত নন।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সদস্য সচিব আব্দুস সালাম মোল্লা বলেন, ঘটনার সময় আমি আমার বাড়িতে ছিলাম। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। শুনেছি সামান্য হাতাহাতি হয়েছে, কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে পাভেল মোল্লার লোকজন অস্ত্র প্রদর্শন করেছে বলে শুনেছি। আমি কোনো চাঁদাবাজি বা অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। রাজনৈতিকভাবে আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই প্রতিপক্ষরা এসব অভিযোগ করছে।

এ বিষয়ে পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি আখতার হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা 
ফারজানা ববি মিতু বলেন, জলাবদ্ধতা ও বালুর গদির বিষয়ে আমি মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে (নায়েব) পাঠিয়ে তদন্ত করতে বলেছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×