ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভুক্তভোগী চাইনিজ পোশাক ব্যবসায়ী

এক কোটি টাকা চুরির পর খুদে বার্তা–‘জীবনে কারও বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি’ 

এক কোটি টাকা চুরির পর খুদে বার্তা–‘জীবনে কারও বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি’ 
×

গাড়িচালক জাহিদ হাসান। ছবি-সংগৃহীত

সাহাদাত হোসেন পরশ  

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৫১

‘আমি দু:খিত স্যার। আমাকে ভুলে যাবেন। আপনার গাড়ি লে ডি’ অর কফি শপের পার্কিংয়ে রেখে গেছি। আমি আপনার প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। উপরওয়ালা জানেন, আমি জীবনে কারও বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি। তবে আমাকে এটি করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি জানি না, বাঁচব কি–না। যদি বেঁচে থাকি আপনার টাকা ফেরত দেব। আমি এখন কাঁদছি। কারণ আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি।’ 

মঙ্গলবার তৈরি পোশাক কারখানা ল্যাভেন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যান চাইনিজ নাগরিক ইউ শ্যালীর মোবাইল ফোন নম্বরে ইংরেজিতে এমন একটি খুদে বার্তা পাঠিয়েছেন তার গাড়ি চালক জাহিদ হাসান। এ খুদে বার্তার কারণ হলো, শ্যালীর গাড়িতে থাকা এক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন তার গাড়ির চালক জাহিদ। কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার জন্য ওই টাকা ব্যাগভর্তি করে গাড়িতে রেখেছিলেন শ্যালী। 

এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে কারখানা খুলে তৈরি পোশাকের ব্যবসা করে আসছেন তিনি। দুটি কারখানার একক মালিক তিনি। আরও দু’টি কারখানায় শ্যালীর অংশীদার রয়েছে। বাংলাদেশের বাইরেও তার ব্যবসা রয়েছে। কোটি টাকা চুরি করে মালিকের ফোনে এমন খুদে বার্তা পাঠানোর পর প্রশ্ন উঠেছে, এর সঙ্গে জাহিদ একা না–কি আরও কেউ জড়িত আছে।
  
ল্যাভেন্ডারের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আকরামুল ইসলাম সমকালকে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের কারখানা থেকে কাজ শেষ ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহিদকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন শ্যালী। ঢাকা মেট্রো–চ ৫২–৫০৮৪ নম্বরের গাড়িটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন পূর্বাচল ক্যাডেট কলেজের সামনে থামে। সেখানে একটি হোটেলে খাওয়ার জন্য যাত্রাবিরতি করেন তারা। খাওয়া শেষে দেখেন চালক ও গাড়ি নেই। জাহিদের মোবাইলে কল করলে তা বন্ধ পান। এর কিছু সময় পর শ্যালীর মোবাইল ফোন নম্বরে জাহিদের ফোন করে খুদে বার্তা পাঠানো হয়।
 
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দেওয়ার পরপরই ল্যাভেন্ডার গ্রুপের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতে প্রথমে গুলশান থানায় যোগাযোগ করা হয়। শ্যালী ও তার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা থানায় গিয়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। এরপর মঙ্গলবার রাতে গুলশানের আজাদ মসজিদের সামনে থেকে শ্যালীর গাড়ি উদ্ধার করা হয়। এরপর থানা থেকে জানানো হয়, মূল ঘটনাস্থল খিলক্ষেত থানাধীন হতে পারে। মঙ্গলবার রাতে ল্যাভেন্ডার গ্রুপের লোকজন খিলক্ষেত থানায় যান। সেখান থেকে বলা হয়, ঘটনাস্থল নারায়ণঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন। 

এরপর বুধবার ল্যাভেন্ডার গ্রুপের জিএম আকরামুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় গিয়ে মামলা করেন। সেই মামলার একমাত্র অভিযুক্ত গাড়িচালক জাহিদ। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চালক জাহিদ হাসানের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডের আন্দুলিয়ায়। চার মাস আগে ল্যাভেন্ডার গ্রুপে চাকরি নেন তিনি। রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরে তিনি থাকেন। 

ইউ শ্যালীর সঙ্গে সমকালের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলে তিনি চালক জাহিদ হাসানকে নিয়োগ দেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় যেসব নথিপত্র রেখেছেন তা পাঠিয়েছেন। দ্রুত টাকা উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। 

গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাতে অভিযোগ পাওয়ার পর গাড়ি উদ্ধার করেছি। এরপর পরবর্তী করণীয় ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন সমকালকে বলেন, মামলার পর তদন্ত শুরু করেছি। দ্রুত চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গার্মেন্টস মালিক ওই টাকা গাজীপুরের একটি ব্যাংক থেকে তুলেছিলেন। 

পুলিশ সূত্র জানায়, এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। 

আরও পড়ুন

×