ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরাসরি তালিকাভুক্তির সঙ্গে হাইব্রিড পদ্ধতির আইপিওর বিধান আসছে

সরাসরি তালিকাভুক্তির সঙ্গে হাইব্রিড পদ্ধতির আইপিওর বিধান আসছে
×

মাসুদ খান

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

শুধু ‘ডিরেক্ট লিস্টিং’ বা সরাসরি তালিকাভুক্তি নয়, কমিশন আইপিও বিধিমালাকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করতে কাজ করছে। এর ফলে বড় কোম্পানিগুলোর মালিকরা একই সঙ্গে তাদের বিদ্যমান শেয়ার বিক্রির সুযোগ পাবেন। আবার নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানির জন্যও নতুন মূলধন সংগ্রহ করতে পারবেন। অর্থাৎ ‘হাইব্রিড পদ্ধতিতে’ শেয়ারবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় দেশীয় ও বহুজাতিক ব্র্যান্ড ও কোম্পানিগুলোর শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার, মেটলাইফ, নেস্‌লে বাংলাদেশ, বাংলালিংকের প্রতিনিধিরা ছিলেন। এছাড়া দেশীয় বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যে মোবাইল মানি সেবা প্রদানকারী কোম্পানি বিকাশ ও নগদ, মেঘনা গ্রুপ, প্রাণ-আরএফএল, ডিবিএল, আকিজ রিসোর্সেস এবং ওয়ালটন, ওষুধ কোম্পানি মধ্যে ইনসেপ্টা, হেলথ কেয়ার এবং সরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে কাফকোসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি করপোরেট ব্র্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীদের সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি খাতের জন্য ডিরেক্ট লিস্টিং বা সরাসরি তালিকাভুক্তি পদ্ধতি উন্মুক্ত করাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিরা। তবে বেশ কিছু কোম্পানি হাইব্রিড সিস্টেমের প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে। তাদের যুক্তি, একদিকে কোম্পানির কিছু নতুন মূলধন প্রয়োজন। আবার মালিকরাও কিছু শেয়ার বিক্রি করতে চান। এই দুইয়ের সমন্বয় করা গেলে বহু কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে চাইবে।

বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডিরেক্ট লিস্টিং’ কেবল সেসব কোম্পানির জন্য, যেগুলোর এখন নতুন করে মূলধন নেই, কিন্তু সেগুলোর মালিকরা নিজেদের কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে চান। তবে কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে এ হার ২০ শতাংশ হতে পারে। 

তিনি বলেন, এর বাইরে যেসব কোম্পানির মালিকরা কোম্পানির জন্য মূলধন নেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও কিছু শেয়ার বিক্রি করতে চান, তাদের জন্য কমিশন নতুন বিধান করবে। এটা আইপিও বিধানের মধ্যে যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিএসইসির চেয়ারম্যান জানান, সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে তাঁর কমিশন। এরই মধ্যে এর খসড়া বিধিমালা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান আরও বলেন, দেশের শেয়ারবাজারে পর্যাপ্ত মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানি নেই। ভালো ও স্বনামধন্য ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে সম্পৃক্ত করে বাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়াতে চায় কমিশন, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সাহায্য করবে। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোম্পানির কর-সুবিধা, ব্র্যান্ড ইমেজ এবং শেয়ারের তারল্য বৃদ্ধি পায়, যা উত্তরাধিকারীদের শেয়ার ‘লিকুইড’ করার সুযোগ দেয়।
অতীতে বেসরকারি খাতের জন্য সরাসরি তালিকাভুক্তি বন্ধ করে দেওয়ার পেছনে মূল কারণ–এ প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্তির প্রথম কয়েকদিন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মালিকরা নানাজনকে টাকা দিয়ে উচ্চ মূল্যে শেয়ার কিনিয়ে শেয়ারের দর অস্বাভাবিক বাড়িয়েছিলেন। এরপর তারা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করেছেন। পরে সেসব কোম্পানির শেয়ারের দর অনেক কমে যায়। 
মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বিএমবিএর সভাপতি ইফতেখার আলম বলেন, খুলনা পাওয়ারসহ আরও দুই-একটি শেয়ারে এমন অভিযোগ ছিল। ২০১৫ সালে আমান সিমেন্টের আবেদনের সময়েও একই ধরনের কারসাজির আশঙ্কায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যদের জন্য এই পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
তবে ইফতেখার আলম মনে করেন, অতীতের ঘটনা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা কম। কারণ আগের থেকে কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জ কারসাজি প্রতিরোধ ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর। তাছাড়া এক্সচেঞ্জের লিস্টিং রেগুলেশনের বদলে নতুন বিধিমালায় এমন সব বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার কারণে আগের মতো যথেচ্ছভাবে কোনো কোম্পানি এ প্রক্রিয়ায় তালিকাভুক্ত হতে পারবে না।

আরও পড়ুন

×