ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আলোচনা সভায় বক্তারা

এনসিটি-সিসিটি বিদেশি ইজারায় জাতীয় স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়বে

এনসিটি-সিসিটি বিদেশি ইজারায় জাতীয় স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়বে
×

জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:২৭ | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:২৮

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সার্বভৌমত্ব ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বক্তারা।

আজ শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। ‘বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন’ এবং ‘বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম’ এ সভার আয়োজন করে।

বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির পাশাপাশি কৌশলগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এ বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে কনসেশন ভিত্তিতে পরিচালনার উদ্যোগকে শুধু বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তাদের অভিযোগ, এনসিটি ইজারার উদ্যোগ আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শুরু হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও তা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বন্দর শ্রমিক, চট্টগ্রামের শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের আন্দোলন ও আপত্তির মুখে তখন সরকারকে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল। বর্তমান সরকারও আগের নীতির ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সভায় বক্তারা বলেন, এনসিটি ও সিসিটি বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত রাষ্ট্রীয় সম্পদ। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় জনবল এসব টার্মিনাল পরিচালনা করছে। বিদ্যমান অবকাঠামো ও পরিচালনা সক্ষমতা থাকার পরও কেন দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি অপারেটরের হাতে দায়িত্ব দিতে হবে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

তারা বলেন, চূড়ান্ত ইজারা চুক্তির আগেই কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ প্রায় ৩৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ ভোক্তার ওপর। ভবিষ্যৎ অপারেটরের জন্য বেশি আয়ের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যেই এ মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন বক্তারা।

বিদেশি অপারেটর নিয়োগ করলেই দুর্নীতি ও অদক্ষতা কমবে—এমন ধারণারও সমালোচনা করেন তারা। তাদের মতে, প্রশাসনিক দুর্বলতা, জবাবদিহির অভাব ও তদারকির ঘাটতি দূর করা গেলে দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেই বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। কনটেইনার জট বা ধীরগতির জন্য শুধু বন্দরকে দায়ী করা ঠিক নয়; কাস্টমসের ডকুমেন্টেশন, শুল্কায়ন, পরিবহন এবং বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়াও এর সঙ্গে জড়িত।

জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বন্দরের আশপাশে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং জ্বালানি অবকাঠামো রয়েছে। বন্দর পরিচালনার সঙ্গে বাণিজ্যিক তথ্য, জাহাজ চলাচল ও সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা জড়িত। তাই, দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা চুক্তির আগে জাতীয় ও তথ্য নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লা বাহার, ইফতেখার কামাল খান, তমলিম হোসেন সেলিম এবং লেখক, বিশ্লেষক ও গবেষক আবু তাহের খান।

আরও পড়ুন

×