বাংলাদেশের সেবা খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে
শেখ বশিরউদ্দীন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (ইপিএ) আওতায় জাপানকে ৯৮টি সেবা খাতে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে বাংলাদেশ। জাপান বাংলাদেশকে ১২০টি সেবা খাতে একই সুবিধা দেবে। এর ফলে দেশের সেবা খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে জাপানের সঙ্গে সই হওয়া ইপিএ চুক্তি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন একথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। চলতি বছরের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাজারে প্রবেশাধিকারে যে জটিলতা তৈরি হতে পারে, তা বিবেচনায় নিয়ে সবার সমন্বয়ে এই চুক্তি করা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘জাপান আমাদের জন্য ১২০টি সেবা খাত খুলে দিয়েছে, আমরা তাদের জন্য ৯৮টি খুলেছি। জাপানি বিনিয়োগ এলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে, প্রযুক্তি আদান-প্রদান হবে। এর ফলে দেশে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়বে।’ তিনি আরও বলেন, জাপান বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতি। এমন একটি দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বে যেতে পারা বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। ভারত যেখানে এ ধরনের চুক্তি করতে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় নিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যেই তা করতে পেরেছে। এর মধ্য দিয়ে অর্থনীতি আরও উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শেখ বশিরউদ্দীন জানান, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের জনবল জাপানে কাজের সুযোগ পাবে। নার্সিং খাত, শিল্পকারখানার শ্রমিক, সেবাদাতা ও গৃহভিত্তিক সেবাদাতা–সব ক্ষেত্রেই লোক নেওয়া হবে। বিভিন্ন দক্ষ পেশাজীবী–এমনকি চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরাও যেতে পারবেন। চুক্তির কারণে বাংলাদেশ কোনো বড় চাপে পড়বে কিনা–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১ হাজার ৭০টি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে, সেগুলো থেকে বছরে ২০ কোটি টাকারও কম রাজস্ব আসে।
বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অনেক পণ্যে আগে থেকেই শুল্ক শূন্য। যেমন–খাদ্যপণ্য, তুলা ও সুতা। যন্ত্রপাতিতে শুল্ক এক শতাংশ। এসব মিলিয়ে ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে আমরা সুবিধা দিয়েছি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা নেই।’
বাণিজ্য সচিব বলেন, যেসব শুল্ক ধাপে ধাপে কমানো হবে, সেগুলোর জন্য ১৮ বছর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে কেবল পাঁচতারকা হোটেল ও মোবাইল ফোন–এই দুটি খাত উন্মুক্ত ছিল। এখন আরও অনেক খাত যুক্ত হওয়ায় জাপানের বড় বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাপানের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনেই এটি তোলা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে চুক্তি কার্যকর হবে। বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের সুবিধা পাচ্ছে, তাই তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই।
- বিষয় :
- শেখ বশিরউদ্দীন
