ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মোটরসাইকেল ব্যবসায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ

মোটরসাইকেল ব্যবসায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

এবার মোটরসাইকেল ব্যবসায় যাত্রা শুরু করেছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। নিজস্ব ব্র্যান্ডের পাশাপাশি এখন থেকে দেশের বাজারে টিভিএস ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন করবে প্রতিষ্ঠানটি। নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘রাইডো’ ইলেকট্রিক স্কুটার এবং পেট্রোল ও অকটেনচালিত মোটরসাইকেল খাতে আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে তারা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় প্রাণ সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরএন পাল।

প্রাণ গ্রুপ জানিয়েছে, শিগগিরই হবিগঞ্জ শিল্প পার্কে মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হচ্ছে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। প্রাথমিকভাবে সেখানে উৎপাদন করা হবে ৫০০০ ইউনিট টিভিএস মোটরসাইকেল। পরে কারখানা সম্প্রসারণ করে উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করা হবে। এই কারখানা স্থাপনের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। হবিগঞ্জে এরই মধ্যে রাইডো ইলেকট্রিক স্কুটার তৈরি ও বিপণন শুরু করেছে তারা।

ইতোমধ্যে টিভিএস মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড বাংলাদেশে বাজারজাতকরণের দায়িত্ব নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। মেইড ইন বাংলাদেশ লেখা থাকা টিভিএস মোটরসাইকেল তৈরি করার লক্ষ্যে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে। নতুন মডেল, উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম ও উন্নত বিক্রয়োত্তর সেবার মাধ্যমে এই ব্র্যান্ডটিকে আবারও শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে। 

এ বিষয়ে আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরএন পাল বলেন, বর্তমানে মোটরসাইকেল শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি লাইফস্টাইল পণ্যে পরিণত হয়েছে। আরএফএল গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত বাইসাইকেল উৎপাদন ও বিপণন করে আসছে। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মোটরসাইকেল এবং পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক স্কুটার বাজারে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, একসময় টিভিএস তরুণদের কাছে খুব জনপ্রিয় মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল ব্র্যান্ডটি। প্রাণ-আরএফএল আবার সেটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে চায়। 
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরএন পাল জানান, বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনাও রয়েছে প্রাণ গ্রুপের। ভবিষ্যতে আরএফএল গ্রুপ চীনের একটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির কাছ থেকে নিজস্ব নেক্সো ব্র্যান্ডের বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি আমদানি করে দেশের বাজারে বিক্রি করবে। প্রথম ধাপে ২০টি গাড়ি আসবে। সেগুলো নিজেরা ব্যবহারের পর সন্তুষ্ট হলেই বড় আকারে আমদানিতে যাবে তারা। শুরুতে সেডান কার ও এসইউভি গাড়ি আমদানি করা হবে। 

ইলেকট্রিক স্কুটারকে ভবিষ্যতের বাহন হিসেবে বিবেচনা করে এখানে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায় আরএফএল। এ বিষয়ে আরএন পাল বলেন, ভারত, চীন, ভিয়েতনামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইলেকট্রিক স্কুটার ব্যাপক জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে বাজার গড়ে ওঠেনি। ২০২৭ সালের মধ্যে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে উন্নতমানের রাইডো ব্র্যান্ডের ইলেকট্রিক স্কুটার গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। 

তিনি বলেন, হবিগঞ্জ শিল্প পার্কে ইলেকট্রিক স্কুটার উৎপাদন ও সংযোজন প্রকল্পে ইতোমধ্যে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া পণ্য তৈরিতে ২০ শতাংশ যন্ত্রাংশ কারখানাতেই উৎপাদন হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে ইলেকট্রিক স্কুটারের প্রায় সব যন্ত্রাংশ নিজেরাই তৈরি করবে। এ জন্য আরও ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে।
আরএফএল গ্রুপের বাইক ব্যবসার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ টিভিএস ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বাজারজাত শুরু হবে। বর্তমানে তারা প্রতি মাসে রাইডো ব্র্যান্ডের ৫০০ ইলেকট্রিক স্কুটার তৈরি করছে। আরও সম্প্রসারণের কাজ চলমান। পুরোদমে চালু হলে প্রতি মাসে ৩০০০ ইউনিট স্কুটার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
ইলেকট্রিক স্কুটারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ চার্জিং অবকাঠামো। এ বিষয়ে প্রাণ গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের রিটেইল আউটলেটগুলোতে দ্রুত চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এ জন্য জাপানিজ প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গ্লাফিট বাংলাদেশ লিমিটেডের সহায়তায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে ইলেকট্রিক স্কুটারের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।

খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে মোটরসাইকেলের বাজার প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার। বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ। বর্তমানে রাস্তায় চলছে এমন সব মোটরসাইকেলের প্রায় ৯৯ শতাংশই দেশে তৈরি অথবা সংযোজন করা হয়। মোটরসাইকেল শিল্পে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে বড় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ড্রাইভ চেইন, সিট, স্ট্যান্ড, হুইল, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ দেশেই তৈরি করা সম্ভব। স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ উৎপাদনের মাধ্যমে কম দামে উন্নতমানের মোটরসাইকেল সরবরাহ এবং দীর্ঘমেয়াদি সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
২০১৫ সালে দেশে মোটরসাইকেল বিক্রি ছিল দুই লাখের নিচে। পরে সরকারের নীতি-সহায়তা ও দেশে উৎপাদনের ফলে বছরে এখন প্রায় চার লাখের মতো মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে ১০ লাখ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের কথা বলা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×