পলিসি এক্সচেঞ্জের গবেষণা
তামাক কর কাঠামো সংস্কারে বাড়বে রাজস্ব, কমবে ধূমপান
মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২১:৩১
তামাক কর ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার করে ধাপে ধাপে বর্তমান জটিল অ্যাড-ভ্যালোরেম (মূল্যভিত্তিক) পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে নির্দিষ্ট (স্পেসিফিক) কর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব এসেছে। গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি ধূমপানের প্রবণতাও কমতে পারে।
মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালায় ‘বাংলাদেশে রাজস্ব বাড়াতে তামাক কর ব্যবস্থার অপ্টিমাইজেশন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ হাসনাত আলম। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও ইআরএফ যৌথভাবে কর্মশালার আয়োজন করে।
গবেষণায় বলা হয়, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি নানা চাপে রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ধীরগতি, রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা এবং বৈদেশিক খাতে চাপ—সব মিলিয়ে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় রাজস্ব আয়ের নতুন ও কার্যকর উৎস খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশে তামাক খাত দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের একটি বড় রাজস্ব উৎস। বর্তমানে মোট রাজস্বের প্রায় ৯ থেকে ১১ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। ২০১০ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে রাজস্ব আদায় ছিল প্রায় ৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা, যা ২০২৫ অর্থবছরে বেড়ে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে এসেছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।
বর্তমানে দেশে সিগারেটের ওপর চার স্তরের কর কাঠামো রয়েছে—লো, মিডিয়াম, হাই ও প্রিমিয়াম। প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদা ন্যূনতম মূল্য ও সম্পূরক শুল্ক নির্ধারিত। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সম্পূরক শুল্কের হার প্রায় সমান পর্যায়ে আনা হয়েছে, তবুও এই বহুস্তরভিত্তিক কাঠামো এখনো জটিল।
এই জটিলতার কারণে কয়েকটি সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দাম বাড়লে ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামের সিগারেটে চলে যান, ফলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব বৃদ্ধি হয় না। পাশাপাশি অবৈধ সিগারেটের বাজার বাড়ে, কর প্রশাসনের কাজ জটিল হয়ে পড়ে এবং কর ফাঁকি ও বাজার বিকৃতির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
গবেষণায় তিন ধরনের কর কাঠামোর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে—বর্তমান অ্যাড-ভ্যালোরেম ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা এবং মিশ্র ব্যবস্থা। সিমুলেশন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কর ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি রাজস্ব দিতে সক্ষম। এ ব্যবস্থায় আগামী ১০ বছরে বর্তমান পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ২২ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব। একই সঙ্গে সিগারেটের ব্যবহার প্রায় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি হারে কমতে পারে।
বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে তামাক কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফিলিপাইন ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট বা মিশ্র কর ব্যবস্থায় চলে গেছে। এ পদ্ধতিতে প্রতি সিগারেট বা প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট অঙ্কের কর ধার্য করা হয়, ফলে কর ফাঁকি কমে, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস পায় এবং রাজস্ব পূর্বাভাস করা সহজ হয়।
কর্মশালায় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা, সেক্রেটারি আবুল কাশেম এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের ম্যানেজার (প্রোগ্রামস) রোদশী তাহসিন উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- গবেষণা
- তামাক নিয়ন্ত্রণ
- সিগারেট
