করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব ডিসিসিআইয়ের
ডিসিসিআই-সমকাল-চ্যানেল ২৪ প্রাক-বাজেট আলোচনা
ডিসিসিআই, দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের যৌথ আয়োজনে প্রাক-বাজেট আলোচনা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৮:২৩
ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এছাড়া তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির করহার তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো ২৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় করপোরেট কর রিটার্ন পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
আজ সোমবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬–২৭: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ ট্রস্তাব দেওয়া হয়। ডিসিসিআই, দৈনিক সমকাল ও চ্যানেল ২৪ যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি রয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সরকারকে এমন সব উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে ব্যবসা করা সহজ হয়। একই সঙ্গে করের নায্যতা নিশ্চিতে করহার কমিয়ে করের আওতা বাড়িয়ে এনবিআরের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকার বাইরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেও করের আওতায় আনার পরামর্শ দেন তারা। এ জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তা কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সভায় আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আর্থিক খাত, শিল্প-বাণিজ্য এবং অবকাঠামো খাত- এই চার বিষয়ে আলাদা আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব রাখা হয়। আয়কর ও ভ্যাট বিষয়ে ডিসিসিআই বলেছে, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনও অত্যন্ত কম। ২০২৫ অর্থবছরে দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত ছিল মাত্র ৬.৭ শতাংশ, যা উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ডিসিসিআইয়ের মতে, কম কর-জিডিপি অনুপাতের কারণে সরকারকে ঋণ ও পরোক্ষ করের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থনীতি এখনও অনানুষ্ঠানিক খাতে রয়ে গেছে। ফলে বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য করদাতা কর নেটের বাইরে থেকে যাচ্ছে এবং সরকার প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে কর ব্যবস্থার অটোমেশন ও সহজীকরণের ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর কর ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে নতুন করদাতা শনাক্ত করা এবং কর নেট সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
ডিসিসিআই প্রস্তাব করেছে, ব্যক্তির করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা উচিত। পাশাপাশি নন-লিস্টেড কোম্পানির করহারও লিস্টেড কোম্পানির মতো ২৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অটোমেটেড কর্পোরেট ট্যাক্স রিটার্ন পদ্ধতি চালুর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
- বিষয় :
- প্রাক-বাজেট আলোচনা
- ডিসিসিআই
