ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের ভোক্তার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে

বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের ভোক্তার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে
×

গতকাল সোমবার আইসিসি বাংলাদেশ কার্যালয়ে সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ফটাে রিলিজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ০৭:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা ও গণমাধ্যমের পর্যালোচনা একটি স্বাভাবিক বিষয়। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মতামত থাকলেও এর মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও ভারসাম্যপূর্ণ, টেকসই এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

এই বাণিজ্য চুক্তি দুই দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
গতকাল সোমবার ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশের (আইসিসি বাংলাদেশ) সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। আইসিসি বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীতে আইসিবি বাংলাদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের জন্য শুল্কবহির্ভূত বাধা দূর করা এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত পরিবেশ জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি বাণিজ্য-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ, আলোচনা ও ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্যনীতি এবং বাজারের চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে দেশ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে কর ও শুল্ক প্রশাসনে স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যবসা পরিবেশের উন্নয়ন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো ও বেসরকারি খাতের বিকাশে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ করতে এবং উভয় দেশের জন্য টেকসই প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাষ্ট্রদূত গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ক্রমশ আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মাহবুবুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। তিনি সম্প্রতি হওয়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেডকে (এআরটি) দুই দেশের মধ্যে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) সভাপতি রূপালী চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও গভীর হবে, যা দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রুবানা হক বলেন, শ্রমমান, স্বচ্ছতা ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় ধারাবাহিক উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, শিল্পের কাঁচামাল ও সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বেশি স্বনির্ভরতা রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নয়। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। 

আরও পড়ুন

×