তথ্যপ্রযুক্তির উদ্যোক্তা তৈরিতে ৫০০ কোটি টাকার তহবিল
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ১৬:৪২ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ | ১৭:০০
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই তহবিলের অর্থ তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা গঠন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা বিবেচনায় এ খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ তহবিল’ গঠন করা হচ্ছে। এই অর্থ নারী উদ্যোক্তা তৈরি, নারী উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে ব্যবহৃত হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান ১ থেকে ২ শতাংশ হলেও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশব্যাপী সাশ্রয়ী ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব বিমানবন্দর, সাতটি রেলস্টেশন এবং আন্তঃনগর ট্রেনে উচ্চগতির বিনামূল্যের ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, গত চার মাসে ৪১ লাখ নতুন ফোরজি মোবাইল সংযোগ এবং চার লাখ উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কাছে ফাইভজি সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহর ও গ্রামাঞ্চলে ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস পর্যন্ত উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) এবং ‘এক নাগরিক, এক পরিচয়, এক ওয়ালেট’ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি খাতে দক্ষতা বাড়াতে দেশি ও প্রবাসী প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে নীতিগত কাঠামো ও আর্থিক প্রণোদনা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এআই ব্যবহার করে স্মার্ট সিটি উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজীকরণ, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং এআইভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- বাজেট
- নারী উদ্যোক্তা
- তথ্যপ্রযুক্তি
