পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ১৭:৪২
দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করেছে ইউজিসি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ইউজিসির জন্য ২৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১৭৮তম পূর্ণ কমিশন সভায় এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সভার কার্যপত্র উপস্থাপন করেন ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলাম।
অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ৭ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা পরিচালন ব্যয় এবং ৪৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৪ হাজার ৫৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে রাখা হয়েছে।
ইউজিসি সূত্র জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সংশোধিত বাজেট ছিল ১০ হাজার ৮০২ কোটি ২১ লাখ টাকা। সেই তুলনায় আগামী অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয় খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রাজস্ব বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির জন্য ৯৪৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোট ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৯ কোটি টাকা বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ২২৯ কোটি টাকা।
ইউজিসি জানায়, গবেষণা খাতে দ্বৈততা দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ও কমিশনের পৃথক গবেষণা বাজেট একীভূত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতের ২০০ কোটি টাকা ইউজিসির বাজেটে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে গবেষণা খাতে ইউজিসির বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এর সঙ্গে বৈদেশিক স্কলারশিপ খাতে ১২ কোটি টাকা যুক্ত হয়ে মোট বরাদ্দ ২৩৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের সঙ্গে পরামর্শক্রমে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে গবেষণা খাতের অর্থ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, গবেষণা তহবিল কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হবে না; বরং গবেষণার মান, প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় অর্থ বণ্টনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ এখনো অপ্রতুল। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে অর্থ ব্যয় করা গেলে উচ্চশিক্ষা খাত উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে। গুণগত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই ইউজিসির প্রধান লক্ষ্য। টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি নির্মাণে মানসম্পন্ন গবেষণার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পূর্ণ কমিশন সভায় ইউজিসির সদস্যবৃন্দ, পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- ইউজিসি
