ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বাজেট

স্বাস্থ্যের বরাদ্দে বড় লাফ, ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌঁছাবে প্রাথমিক সেবা

স্বাস্থ্যের বরাদ্দে বড় লাফ, ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌঁছাবে প্রাথমিক সেবা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ১৯:০৬

দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও সেবার সংকট কাটিয়ে স্বাস্থ্য খাত পুনর্গঠনের বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৯৬ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয় ধাপে ধাপে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠন টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পূর্বশর্ত। এ লক্ষ্য সামনে রেখে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেশের জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ ছিল।

প্রতি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ইউনিট, সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে ‘ই-হেলথ কার্ড’। 

সরকারের আশা, এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে এবং চিকিৎসাসেবার কেন্দ্রীয়করণ কমবে।

জেলা-উপজেলায় সমন্বিত চিকিৎসাসেবা

জটিল রোগের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে সমন্বিতভাবে ‘সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

পরিকল্পনা অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক ও শিশুসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা এবং ফিজিওথেরাপির সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। অন্যদিকে জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে সার্জারি, করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) ও কিডনি ডায়ালাইসিসসহ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হবে। রোগী পরিবহনে ভোগান্তি কমাতে গড়ে তোলা হবে ‘জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক’।

হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকাদানে বিশেষ গুরুত্ব

বাজেট বক্তৃতায় দেশে হামের সাম্প্রতিক বিস্তারের বিষয়টিও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে টিকা সংগ্রহ ও টিকাদান কার্যক্রমে অবহেলা এবং পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে হামের বিস্তার ঘটেছে এবং শিশু মৃত্যুর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই প্রায় শতভাগ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ওষুধ শিল্পে গবেষণা ও বিনিয়োগ

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দেশের ওষুধশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে আর্থিক প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এপিআই (অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) শিল্প পার্কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, গবেষণা ও বিনিয়োগে সহায়তা দেওয়া হবে। 

৫ হাজার চিকিৎসক, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী

দীর্ঘদিনের জনবলসংকট কাটাতে দ্রুত ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশব্যাপী নতুন করে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যাঁদের ৮০ শতাংশ নারী হবেন। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষায় ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে আসনসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে।

চিকিৎসাশিক্ষায় এআইভিত্তিক নতুন কারিকুলাম

চিকিৎসাশিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে ইন্টিগ্রেটেড মডিউলার পদ্ধতি, আধুনিক ক্লিনিক্যাল শিক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চিকিৎসা জ্ঞান ও প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করে নতুন দক্ষতাভিত্তিক এমবিবিএস কারিকুলাম চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×