ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বাজেটের আকারের সঙ্গে বিদেশি ঋণ নির্ভরতাও বেড়েছে

বাজেটের আকারের সঙ্গে বিদেশি ঋণ নির্ভরতাও বেড়েছে
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ২০:০৮ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ | ২০:১২

প্রস্তাবিত বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকার ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেবে। এর মধ্যে অনুদানের প্রত্যাশা করা হচ্ছে ৬ হাজার ১৫০ কোটি। যা পরিশোধ করতে হবে না। ফলে নিট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। সামগ্রিক ঘাটতি ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়।

এবার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি। ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এটিও আগের অর্থবছরের মতোই জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত বিদেশি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট প্রস্তাবের ভাষণে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে ব্যাপকভাবে ঋণ গ্রহণের ফলে দেশের ঋণ পরিশোধ ও সুদ পরিশোধ বাবদ ব্যয় অত্যধিক পরিমাণে বেড়েছে। এটি বাজেট ঘাটতির কারণ। 

সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ আমলের সবশেষ অর্থাৎ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। সার্বিকভাবে ঘাটতি ধরা হয় ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি। বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ বা ১ লাখ ৬ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। 

গত বছরের ডিসেম্বরে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ছিল ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। প্রাপ্ততা ও পরিশোধের ভিত্তিতে নতুন অর্থবছরের ঋণও এর সঙ্গে যুক্ত হবে। বিএনপির আগের মেয়াদের শেষ অর্থবছরে (২০০৫-০৬) বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী নিজেও তাঁর ভাষণে এ সংখ্যা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, ২১ বছরে বিদেশি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১২ লাখ ৬৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা।

অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট প্রস্তাবে বলেছেন, অবস্থার উত্তরণে ঋণ ব্যবস্থাপনা সংস্কার, উচ্চ রিটার্ন সমৃদ্ধ খাতে সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঠামো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগের গুণগত মান নিশ্চিত ও অর্থ প্রবাহ বাড়বে।

বিদেশি উৎস ছাড়াও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আসন্ন অর্থবছরের ঘাটতি মেটানো হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ করা হবে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ, ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগামী অর্থবছরে ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×