ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বাম দলগুলোর প্রত্যাখ্যান 

এই বাজেট কথার ফুলঝুড়ি ও রাজনৈতিক চমকবাজি 

এই বাজেট কথার ফুলঝুড়ি ও রাজনৈতিক চমকবাজি 
×

ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ২১:২৪

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বার্থের বাজেট’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশে বাম ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো। তারা বলেছে, এই বাজেট কথার ফুলঝুড়ি ও রাজনৈতিক চমকবাজী ছাড়া আর কিছুই নয়। 

বৃহস্পতিবার পৃথক বিৃবতিতে প্রস্তাবিত বাজেটের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় দলগুলোর নেতারা এসব কথা বলেন। লুটেরা ধনিক শ্রণি, কালো টাকার মালিক ও আমলা তোষণের নীতির অতীতের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে গণমানুষের গণআকাঙ্খা অনুযায়ী শোষণ-বৈষম্যমুক্ত সমাজের লক্ষাভিমুখী জনকল্যাণের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। 

গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের বিবৃতিতে বলা হয়, বিশাল বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। এবারও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিসহ জনকল্যাণ খাত অবহেলিত রয়ে গেছে। অন্যদিকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কালো টাকা সাদা করার পুরোনো প্রক্রিয়া এবারও বহাল রাখা হয়েছে। ধনিক শ্রেণির স্বার্থে উৎস কর কমানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুাষের ওপর পরোক্ষ করের বোঝা বহাল তবিয়তেই রয়েছে।

বিবৃতিতে সই করেছেন বজলুর রশীদ ফিরোজ, সাজ্জাদ জহির চন্দন, আবদুল্লাহ ক্কাফি রতন, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, নাজমুল হক প্রধান, ইকবাল কবির জাহিদ, মাসুদ রানা, মোশরেফা মিশু, হারুনার রশীদ ভূইয়া, আব্দুল আলী, রজত হুদা ও সৈয়দ হারুনুর রশীদ। 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন পৃথক বিবৃতিতে বলেন, এই বাজেট গণবিরোধী চরিত্রের। সিপিবি এই বাজেটকে স্বাগত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করছে। একদিকে নতুন ঋণনির্ভর বড় অংকের বাজেট, অন্যদিকে সুদ পরিশোধ করাই অন্যতম প্রধান ব্যয়ের খাত হওয়া প্রস্তাবিত বাজেটের অসারতা প্রমাণ করে। 

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বিবৃতিতে বলেন, এই বাজেটে বাজেট ঘাটতি, দেশি বিদেশি ঋণ গ্রহণ, ঋণের সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ বরাদ্দ ও কথার চমক রয়েছে। নতুন আশার কথা শুনিয়ে গতানুগতিক পুরনো পথেই হাঁটছে সরকার।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, নতুন বাজেট প্রস্তাবনায় 'সামর্থ্যের মধ্যে জনপ্রত্যাশা পূরণে আধাআধি প্রচেষ্টা' রয়েছে। বিশাল ঘাটতি পূরণ আর রাজস্ব সংগ্রহই হবে বাজেট বাস্তবায়নের মূল চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি রোধ করতে না পারলে প্রবৃদ্ধির কোন খতিয়ান কাজে আসবেনা। কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাব অর্থনৈতিক দূর্বৃত্তায়নকে নতুন করে উৎসাহ যোগাবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, বাজেটের আকার বড় দেখানোর জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা অবাস্তব এবং কোনভাবেই অর্জনযোগ্য নয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে জঙ্গীবাদী হামলায় রাজস্ব প্রশাসনও বিপর্যস্ত হয়েছে। এই বিপর্যস্ত রাজস্ব প্রশাসন দিয়ে রাজস্ব আদায়ের প্রাক্কলিত ৬লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র। ফলে প্রস্তাবিত বাজেট কথা ফুলঝুড়ি ও রাজনৈতিক চমকবাজী ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকারকে আকাশে না উড়ে মাটিতে নেমে বাস্তববাদী হওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে। 

আরও পড়ুন

×