ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল 

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল 
×

প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ২২:২১

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে উন্নয়ন, কর্মসংস্থানমুখী, সামাজিক কল্যাণ এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে সমন্বিত করে একটি সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের বাজেট বলে অভিহিত করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। সংগঠনটি বলেছে, কার্যকর বাস্তবায়ন ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করে এ বাজেট দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপনের পরপরই বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজিত আনন্দ মিছিল শেষে এসব কথা বলা হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান।

তিনি বলেন, এই বাজেটের পেছনে যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও উন্নয়ন দর্শন কাজ করেছে, তার মধ্যে জনগণের কল্যাণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত সংস্কার, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের অঙ্গীকার বাজেটের বিভিন্ন অগ্রাধিকারে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ দূরদর্শী রাষ্ট্র নির্মাণের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। 

নাজমুল বলেন, জাতীয় বাজেট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি রূপরেখা। সাড়ে ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, নবম জাতীয় বেতন স্কেল এবং নির্বাচনকালীন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকারকে কেন্দ্র করে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষায় মূল্যস্ফীতিকে ৭-৮ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যও ইতিবাচক পদক্ষেপ। 

নাজমুল বলেন, বাজেটে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু কল্যাণ, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন—এই ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় বাজেটে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল, মসলাসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করা। অতীতে বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেত। এবারের জনবান্ধব বাজেটে সেই সমস্যা সমাধান হবে বলে সরকার আশাবাদী। 

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে অনুষ্ঠিত মিছিলটি কাকরাইল, ফকিরাপুল হয়ে আবারও দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মাখদুম মাসুম বিল্লাহ, ফয়েজ উল্লাহ্ ফয়েজ, সারওয়ার ভূঁইয়া রুবেল, জেড আই কামাল, ফয়সাল আহম্মেদ খান; সহ-সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুর রহমান আবীর, জসীম, মামুন, মাসুম ভূঁইয়া; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আসাদ, ইকবাল কবির চাকলাদার, আব্দুল মমিন, লুৎফর রহমান খান, শাহ আলম তপু; আপ্যায়ন সম্পাদক এম. আরজ আলী (শান্ত), যোগাযোগ সম্পাদক আবদুল আলীম, শ্রম সম্পাদক নূর আলিম লালন, মুক্তিযোদ্ধা সম্পাদক হারুন উর রশিদ, সহ-আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন জুয়েল, সহ-আপ্যায়ন সম্পাদক মো. সাইদুজ্জামান পাশা; মহানগর উত্তর সাংগঠনিক সম্পাদক এস. খোকন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন; স্বেচ্ছাসেবক নেতা আল আমিন, সহ-সাহিত্য সম্পাদক মো. রহিম, স্বেচ্ছাসেবক নেতা অমিত হাসান হাফিজসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

আরও পড়ুন

×