কর্মশালায় বক্তারা
দুর্যোগে আগাম সতর্কবার্তা মানলে কমবে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ২২:৫০
বাংলাদেশে প্রতিবছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, বজ্রপাত ও অতিবৃষ্টিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে সময়োপযোগী আগাম সতর্কবার্তা প্রচার এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ও আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘দুর্যোগ বিষয়ক সতর্কতা’ শীর্ষক এক মিডিয়া সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিবছর মৌসুমি ও আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, তাপদাহ, শৈত্যপ্রবাহ, নদীভাঙন ও বজ্রপাতের মতো দুর্যোগে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় পানি ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধিও জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা যথাসময়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখো মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। বর্তমানে আগাম সতর্কবার্তা ও প্রস্তুতির কারণে সেই সংখ্যা ২০-এর নিচে নেমে এসেছে। কৃষি ফসলের ক্ষতি কমানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ১৩তম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্যোগ মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি জানান, বর্তমানে বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে দুর্যোগকালে মানুষ ও গবাদিপশু একসঙ্গে আশ্রয় নিতে পারে। তবে অনেক মানুষ সম্পদ ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চান না। এ বিষয়ে আরও প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বন্যার সময়ের পরিবর্তে বন্যার আগেই যদি আগাম সতর্কবার্তা বেশি প্রচার করা হয়, তাহলে মানুষ প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় পাবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কবার্তা পাওয়ার পর মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে মানুষ সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ওপর বেশি আস্থা রাখে। তাই দুর্যোগের আগাম বার্তা প্রচারে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা বোস বলেন, দুর্যোগের প্রভাব নারী, শিশু, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর বেশি পড়ে। তাই তাঁদের জন্য আগাম সতর্কবার্তা ও দুর্যোগ–পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে বজ্রপাতের আগাম সতর্কবার্তা এবং করণীয় বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপে স্বাগত বক্তব্যে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোমেনুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তা নিয়মিত জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সঠিক তথ্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে, আর ভুয়া তথ্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সহজ ভাষায় নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচারে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- বিষয় :
- কর্মশালা
